অর্থের বিনিময় সিলেটে ভোটারদের কাছে টানার অভিযোগ!

৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। আর এ নির্বাচনের শেষ দিকে এসে চলছে টাকার ছড়াছড়ি। ভোট কিনতে কেউ দিচ্ছেন নগদ টাকা, আবার কেউ টাকার পরিবর্তে দিচ্ছেন নির্দিষ্ট কোনো দোকানের স্লিপ। ওটা নিয়ে দোকানে গেলেই মিলছে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। একই সাথে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মহল্লার ক্লাবগুলোতে আর্থিক অনুদান বিতরণের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, নগরীর নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে টার্গেট করে ভোটের এক-দুই দিন আগে মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে ভোট কেনার চেষ্টা চালানো হবে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার ভোট কেনার চেষ্টা করবেন প্রার্থীরা। আগের নির্বাচনগুলোতেও তাই হয়েছে।

কয়েকটি ওয়ার্ডে টাকা বিতরণের কিছু প্রমাণও মিলেছে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার আশপাশের দোকানগুলোর বেচাকেনা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক দোকানি পূর্বের বকেয়া পাওনাও ফের পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

নগরীর বাদামবাগিচা বাজারের এক দোকানদার জানান, নির্বাচন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে তার দোকানে বেচা-বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এখন তার দোকানের দৈনিক ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়।

ভোট শুরু হওয়ার পর অনেকে পুরনো বকেয়াও দিয়েছে বলে জানান তজম্মল আলী নামের এক দোকানদার। হঠাৎ কেন বিক্রি বাড়ল, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ভোট আসছে, বিক্রি তো বাড়বেই। এখন সবার হাতে টাকা আছে। প্রতিদিনই টাকা পায়। প্রচার-প্রচারণায় গেলেই তো টাকা পাওয়া যায়। আবার বস্তিতে ভোট চাইতে যারাই আসে, কমবেশি টাকা দিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামান জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ এলেও এখনো টাকা বিতরণের বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী মৌখিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই এসব বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:

নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম অভিযোগ করে বলেন, কালো টাকার মালিক প্রার্থীরা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। ভোটারদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে আমি আশা করি বিবেকবান ভোটারদের টাকা দিয়ে কেনা যাবে না।

এই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিবারই নির্বাচনে কালোটাকা নিয়ে ভোট কেনা হয়। এবারও টাকা দিয়ে বস্তির ভোট কেনার পাঁয়তারা চলছে। এটি বন্ধ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।