‘নৌকার অপরাধ কি, নৌকা ঠেকাবেন কেন?’

শনিবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকা ঠেকাতে হবে কেন? শ্রাবণ শেষে বন্যা হবে অাপনাদের নৌকায় চড়তেই হবে। তিনি বলেন, নৌকার অপরাধ কি, নৌকা ঠেকাবেন কেন? নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে বলেই আজ বাংলাদেশের দারিদ্র কমেছে। দেশ উন্নত হয়েছে, দেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে। তাহলে কেন নৌকা ঠেকাবেন? নৌকা ঠেকিয়ে কাকে ক্ষমতায় আনবেন, যারা যুদ্ধপরাধী তাদেরকে।

শেখ হাসিনা বলেন, মৃত্যুকে ভয় পাই না। যতক্ষণ বেঁচে অাছি ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব। দেশের ও মানুষের উন্নয়নে বাবা বেহেস্ত থেকে দেখে যেন শান্তি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে অবশ্যই আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অধিষ্ঠিত হবো এবং আরও উন্নত করব। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ, যে কথা তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড, সেই বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ, উন্নত দেশ সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

‘আমরা চাই, আমার দেশের মানুষও উন্নত জীবন পাবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলুক সেটা আমরা কখনো বরদাশত করবো না।’

‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলবো। এই এগিয়ে চলার পথ যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে যারা প্রতিনিয়ত আমার প্রত্যেকটি কাজ সুন্দরভাবে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সকলের সহযোগিতা না পেলে আজকে বাংলাদেশের এই এগিয়ে চলা, এটা সম্ভব হতো না। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। তার যে উন্নত হওয়া এটা কখনো সম্ভব হতো না। ’

ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করা, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া এবং দেশের উন্নয়ন ও অর্জনে অনন্য সফলতার জন্য এ গণসংবর্ধণা দেয়া হয়।

এর অাগে দুপুর ১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এর অাগে বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে অাসেন।

পবিত্র কোরঅান, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠের মাধমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অাওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। শুরুতে অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন অাওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী এবং ২১ সালে সুবর্ণজয়ন্তিতে বাংলাদেশে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পালন করবো। এ সময় বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম শহরের মতো নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাবে। তারা উন্নত জীবন ধারণ করবেন। এই লক্ষ্য নিয়ে অামরা কাজ করে যাচ্ছি। এ দেশকে অাগামীতে কেমন করে উন্নত করবো সে পরিকল্পনা অামরা করছি। দেশকে নিয়ে জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বো অামরা।

তিনি বলেন, অাওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষ কিছু পায়। মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকে এটা অামরা বারবার প্রমাণ করেছি। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর তারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। হাড্ডিসার, কঙ্কালসার দেহ দেখিয়ে বাইরে থেকে টাকা এনে তারা তারা সে টাকা লুটপাট করেছে, বিদেশে পাঠিয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনি জিয়া তাদের বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যেন না হয় সে জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, অামরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে ক্ষমতায় যেতে পারলে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। সে কাজ করতে অামরা সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

এদিকে ‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড়’সংবর্ধনা সফল করতে বেলা ১১টা থেকেই উৎসব আমেজে দলে দলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। দুপুর চারটা ১৯মিনিটের দিকে সংবর্ধণার মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। তার আগে দলের সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়।

শনিবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সংবর্ধণায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবর্ধণায় প্রধানমন্ত্রী সন্তান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-ও এই আয়োজনে উপস্থিত হয়েছেন।

এর আগে, গত ৭ জুলাই শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণার কথা জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে গত ১৯ জুন দলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৭ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২১ জুলাই বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

গণসংবর্ধনায় অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমদু এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। সংবর্ধনা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, সহযোগী  ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।