সবকিছু প্রস্তুত থাকার পরও বাঁচানো গেল না রাজীব মীরকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, লেখক, গবেষক, বিভিন্ন মানবাধিকারের বিষয় নিয়ে আন্দোলনকারী রাজীব মীর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ে গ্লিনিগলস গ্লোবাল হেলথ সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তাঁর ছোট বোন সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমীন আজ শনিবার সকালে জানান, হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন রাজীব মীর। গতকাল রাত ১টা ৩৭ মিনিটে তিনি মারা যান। চেন্নাইয়ে এখন রাজীবের বাবা-মা, সবচেয়ে ছোট বোন ও বোনের স্বামী রয়েছেন। তিনিও রাজীবের সঙ্গে চেন্নাইয়ে ছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফিরে আসেন। রাজীবের স্ত্রী সুমনা খান ও মেয়ে বিভোর ঢাকায় আছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজীব মীরের জন্ডিস ছিল এক থেকে দেড় মাসের মতো। ই-ভাইরাস ধরা পড়লে শুরুতে এটাকে তেমন ক্ষতিকর কিছু না বলে ভাবা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য চেন্নাই নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর লিভার সিরোসিস হয়েছে জানিয়ে দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। এর জন্য ৯০ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। এই অর্থের বেশির ভাগ রাজীব মীরের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় পাওয়া যায়। গত মাসে চেন্নাই থেকে রাজীব মীর বলেন- ‘আমি খবর পেয়েছি, আমার চিকিৎসার সহায়তায় আমার পরিবার, বন্ধু, স্বজন, এমনকি অপরিচিত মানুষজনও এগিয়ে এসেছেন। আমি আমার মেয়ের কাছে ফিরতে চাই। সবার দোয়া ও সহযোগিতা থাকলে ভালো হয়ে দেশে ফিরতে চাই।’

রাজীবের বোন সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজ জানান, লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয় অর্থ রাজীব নিজেই হাসপাতালে জমা দেন। তাঁর অস্ত্রোপচারের জন্য শনিবার সময় নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় কিছুটা মুষড়ে পড়েছিলেন রাজীব। তিনি অস্ত্রোপচারের সময় এগিয়ে আনার আকুলতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি কি অত দিন বাঁচব?’ শেষ পর্যন্ত তাই-ই হলো। রাজীবের ডোনারসহ সবকিছুই প্রস্তুত ছিল। অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়া গেল না। ফারজানা আরও জানান, গত শনিবারের আগে হার্ট অ্যাটাক হয় রাজীবের। এরপর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাজীবের মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।