রোহিঙ্গাদের বিদায় করার পূর্ব প্রস্তুতি ছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের চিরতরে বিদায় করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ব্যাংককভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এরপর প্রাণ বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় প্রায় ২০ মাস ধরে প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা, আরসার সদস্য, বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে করা প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটস।

‘ওরা তাদের লম্বা তলোয়ার দিয়েছিল’ শিরোনামে ১৬২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, একদল সশস্ত্র রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণের কয়েক মাস আগে থেকেই মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আক্রমণের জন্য ‘বিস্তৃত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রস্তুতি’ নেয়।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কিভাবে রাখাইন রাজ্যের বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেখানকার বেসামরিক বৌদ্ধদের হামলা শুরুর পর বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ঘটনাকে রুয়ান্ডার গণহত্যার পর সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফোর্টিফাই রাইটসের প্রধান ম্যাথু স্মিথ বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চায় পৃথিবীর মানুষ ভাবুক যে, তারা রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করছে এবং এটা ছিল আরসা’র আক্রমণের জবাব।’

তিনি বলেন, ‘২৫ আগস্ট আরসার হামলার কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস আগে থেকেই সেনাবাহিনী কিভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রোহিঙ্গাদের উৎখাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তার দলিল আমরা সংগ্রহ করেছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ গতবছরের আগস্টের আগেই রোহিঙ্গাদের নিধনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। আত্মরক্ষার জন্য বা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন যেকোনো জিনিস বেসামরিক রোহিঙ্গাদের ঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা শুরু করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। রাখাইনে রোহিঙ্গা নয় এমন স্থানীয় লোকদের কর্তৃপক্ষ ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ বাহিনী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে পালিয়ে আসা মোহাম্মদ রফিক (২৫) নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাখাইনের লোকদের লম্বা তলোয়ার দিয়েছিল সৈন্যরা। এমনকি বাচ্চা ছেলেদের হাতেও এমন লম্বা তলোয়ার দেয়া হয়। অবশ্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

স্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ বলেছেন, মিয়ানমারের গণহত্যার দায়মুক্তি দিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বেশি ঘটবে এবং বেশি আক্রমণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ সৃষ্টি হবে। মিয়ানমারের ঘটনায় পুরো বিশ্ব অলস বসে থেকে আরেকটি গণহত্যার ঘটনার দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষা করতে পারে না।