এক যুগেও অডিটোরিয়াম, টিএসসি পায়নি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের নামাপাড়া বটতলায় ২০০৬ সালে স্থাপিত হয় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। সেসময় স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের দানকৃত জমিতে ও সরকারী সহায়তায় স্থাপিত হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪২ একর জমির উপর শিক্ষাকার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

ক্লাসরুম সঙ্কট সহ নানাবিধ সমস্যা দূরিকরণে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে অন্যান্য ব্যাচের রুটিনের সাথে সময় মীমাংসা করে। এতে করে সেশনজট সহ নানাবিধ সমস্যা বেড়েই চলেছে।

এছাড়া একযুগে পা দেয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেই কোন ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র(টিএসসি)। টিএসসি হীন ক্যাম্পাসটিতে শিক্ষক ও সাধারন শিক্ষার্থীদের ভেতরে যেমন একটি আশা দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে আছে অদেখা আলোর মতো, তেমনি হীনমন্যতাও দেখা যাচ্ছে।

অপরদিকে ১১ বছরের শেষদিকে এখনো প্রশাসনিক ভবনের পিছনে অস্থায়ীভাবে টিনশেড দেওয়া গাহি সাম্যের গান মুক্তমঞ্চে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও আনুসঙ্গিক কার্যক্রম। ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল অডিটোরিয়াম।

বিজ্ঞানভবনের পিছনে অস্থায়ীভাবে টিনশেড দেওয়া একটি ছোট ও সংকীর্ণ জায়গায় স্থাপিত হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদ।স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় বর্তমান উপাচার্যের নজরে বিষয়টি আসলে তিনি মসজিদ টির সংস্করনে হাত দেন।কিন্তু স্থান নির্বাচন ও একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মানের দীর্ঘদিনের দাবি শিক্ষার্থীদের।সেই সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোন স্থায়ী পূজা মন্ডপ না থাকায় প্রতিবছর তাদের কে অস্থায়ীভাবে মুক্তমঞ্চের সামনে মন্ডপ স্থাপন করে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতে হয়।

সম্প্রতি পাশ হওয়া বাজেট কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার ভিতরে আবার আশা জাগলেও জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সবচেয়ে বড় ফায়দা লুটছে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জমির মালিকরা। ভবিষ্যত সম্ভাবনার মুখ দেখতে অতি হিসেব করে স্থানীয়রা গড়ে তুলছে ব্যক্তিগত স্থাপনা। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। তবে এর প্রতিকার এবার না করলেই নয়।

নজরুলিয়ানদের দাবি এবার পাশ হওয়া প্রায় ৪৯১ কোটি টাকার পুরো বাজেট কে টিএসসি, অত্যাধুনিক ডিজিটাল অডিটোরিয়াম, ধর্মীয় উপাসনালয়, আধুনিক জিমনেসিয়াম, খেলার মাঠের আধুনিকায়ন সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ যেন হয় সেদিকে ব্যবহার করা।

নাইমূল হাসান রাহাত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি