খোয়াই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবী এলাকাবাসীর

চুনারুঘাট লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বানের পানি নামার সাথে সাথে চুনারুঘাট পৌরসভার খোয়াই নদীর কয়েকটি স্থানে বাধ ভেঙ্গে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় খোয়াই নদীর বাঁধ। এলাকাবাসীর আশঙ্কা অতি শীঘ্রই ভাঙ্গনের অংশ মেরামত করা না হলে পরবর্তী বন্যায় নদীর বাধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যেতে পারে। এতে  বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিগত টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে চুনারুঘাট  পৌরসভার ৩ ও ২নং ওয়ার্ড, এবং ৬নং সদর ইউনিয়নের চৌপট,  উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এতে  বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছিল।  তারপর বৃষ্টি কমতে থাকলে নদীর পানি কমতে শুরু করে। পানি কমার সাথে সাথে  উপজেলার পূর্ব পাকুড়িয়া পুর্ব আম কান্দি পুর্ব বড়াইল এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধের কয়েকটি স্থান থেকে মাটি ধ্বসে নদীতে পড়তে শুরু করে। এতে বাধটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এ দৃশ্য দেখে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে নদী তীরে অবস্থান নেয়। তারা বাঁধ থেকে মাটি ধ্বসে পড়া স্থানগুলো মেরামত করার দাবি জানান। অন্যথায় পরবর্তী বন্যায় বাঁধের ধ্বসে পড়া মাটির স্থান দিয়ে বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।ক্ষতিগ্রস্ত  এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু, এ সময় তিনি ভাঙ্গন এলাকা মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেন বলে জানান।

কাউন্সিলর হান্নান জানান, খোয়াই নদীতে পানি বৃদ্ধির পর সেই পানি যখন কমতে থাকে তখন নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। যে স্থানটিতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সেটি হল নদীর দুই নদীর বাধ। পানির প্রবাহে বাঁধার ফলে সেখানকার বাঁধে পানির ধাক্কা বেশী লাগে। বহুপূর্বে সেখানে  ব্লক দেয়া হয়েছিল। পানি নামার সাথে সাথে সেই ব্লকসহ বাঁধ নেমে যায়। এমনকি বাঁধে রাস্তায় ইটের ম্যাগাডম ছিল। সেটিসহ বাঁধা ভেঙ্গে যায়।

তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগাযোগ করা হলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন।

এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুছাইন আলী রাজন জানান, পূর্বেও ওই বাঁধে সমস্যা ছিল। যেভাবে রাস্তাসহ বাঁধ ভেঙ্গেছে যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে   আশেপাশের বহু এলাকা তলিয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, নদীর পূর্ব বড়াইল অংশে বাঁধ ভাঙ্গছে। বিপরীত প্রান্তে পশ্চিম বড়াইল এলাকায় ভরাট হয়ে বালুর চর সৃষ্টি হচ্ছে। সেই বালুর চর অপসারণ করলে বাঁধটি হুমকি থেকে রক্ষা পাবে।

চুনারুঘাট উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক মনিরুজ্জামান তাহের জানান, বাঁধের ভাঙ্গন এলাকাটি দ্রুত মেরামত করা না হলে জনসাধারণে চলাচলের রাস্তাটি ভেঙ্গে যাবে। এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের  কর্তৃপক্ষ জানান, বাঁধ থেকে মাটি ধ্বসে পড়ার খবর পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাঁধ মেরাম ইতোমধ্যে  বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাঁধকে শক্তিশাললী করা হবে যাতে আবারও বন্যা আসলে বাঁধের কোন ক্ষতি না হয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন- বাঁধটি মেরামত করা হলে ওই এলাকা ঝুঁকিমুক্ত হবে। এছাড়া খোয়াই নদীর চুরতা হাসারগাও চৌপট রামশ্রী, এলাকার পূর্বের ভাঙ্গন ভেঙ্গে আরো বড় হয়েছে। এতে যে কোন ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এসব বাঁধগুলো মেরামতের জন্য সরকার থেকে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নুর উদ্দিন সুমন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি