ভাষা সৈনিক হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে জাবি উপাচার্যের শোক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ভাষাসৈনিক ও অধ্যাপক হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, ‘ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপক হালিমা খাতুনের মৃত্যু সংবাদ শুনে আমি মর্মাহত। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন জ্ঞানী ও বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে হারালো। এই ক্ষতি পূরণ হবার নয়। শিক্ষক, গবেষক, সাহিত্যিক এবং লেখক হিসেবে তাঁর অবদান জাতি কখনোই ভুলবে না। বাঙলা সাহিত্য তাঁর মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি যে অবদান রেখেছেন, জাতি তা চিরকাল স্মরণ করবে।’

উপাচার্য ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুনের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

হালিমা খাতুন ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুসলিম গার্লস স্কুল ও বাংলা বাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের আমতলা সমাবেশে নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। এখান থেকে অধ্যাপক হিসেবে ১৯৯৭ সালে অবসর নেন। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা প্রদান করে।

হালিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে দেশের অন্যতম আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী। হালিমা খাতুন ১৯৩৩ সালের ২৫ শে আগস্ট বাগেরহাট জেলার বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবা মৌলভী আবদুর রহিম শেখ এবং মা দৌলতুন নেসা।

রুদ্র আজাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি