ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্কুলে ব্যাকডেটে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

মন্ত্রনালয় থেকে নীতিমালা জারির পরও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্কুল সভাপতিরা ব্যাকডেটে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে এ নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলার শৈলকুপা, মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও সদরের কয়েকটি স্কুলে ইতিমধ্যে নিয়োগের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ সোহরাব হুসাইন, অতিরক্ত সচিব জাবেদ আহম্মেদ ও যুগ্ম সচিব নুসরাত জাবিন বানু সাক্ষরিত ২৬ পৃষ্ঠার একটি নীতিমালা জারী করা হয়। যার স্মারক নং ২৪৫। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোন বেসরকারী হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে হলে ৩ বছরের সহ-প্রধান শিক্ষকের অভিজ্ঞতাসহ ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই শর্ত পুরণ না করলে কোন প্রার্থী প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন না।

কিন্তু নীতিমালা জারির পরও শিক্ষা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ডিজির প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে ব্যাকডেটে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের চাপ দিচ্ছেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মকছেদুল আলম জানিয়েছেন, এ ধরণের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। ডিজি অফিসের এক পরিচালক তাকে অবহিত করেছেন। এদিকে এই নীতিমালা জারীর পর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়োগ পক্রিয়া ঝুলে গেছে। সভাপতিরা প্রার্থীদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে রাখলেও তারা আর নিয়োগ দিতে পারছেন না।

জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল বংকিরা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ১৪ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে বংকিরা স্কুলের সহ-প্রধান শিক্ষক আসাদুল কবীর ও ডেফলবাড়িয়া স্কুলের সহ-প্রধান শিক্ষক খসরুল আলম খোকা ছাড়া সবাই অযোগ্য। কিন্তু একটি বিশেষ মহল ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। সদর উপজেলার জিয়ালা স্কুলের বিএসসি শিক্ষক গোবিন্দপুর গ্রামের জাকির হোসেন থার্ডক্লাস ও তার এশিয়ার ইউনিভার্সিটির সার্টিফিকেট জাল হলেও তিনি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। জাকির স্কুল ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক করার ফলে এক বছর সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।

বংকিরা হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান, নীতিমালা জারীর পর এখন আর ১২ই জুনের পর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া দুইজন ব্যতিত সবাই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এখন কোরাম সংকটের কারণে নতুন করে সার্কুলার দিতে হবে। ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার মকছেদুল আলম জানান, নীতিমালা জারীর পর কোন স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরো বলেন, এ ভাবে অবৈধ পথে যারা নিয়োগ দিবে তারা বিপদে পড়বে।

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি