‘আমি আমার ভাইকে ফেরত চাই’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা। রাশেদের বড় বোন রূপালী বেগমও রাশেদের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর জানিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে ফেরত চাই।’ঘটনার পর রাশেদ খানের স্ত্রী রাবেয়া আলো বলেন, ‘রাশেদকে ডিবি পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তুলে নিয়ে গেছে বাসা থেকে। এ সময় তাকে অনেক মেরেছে।’ এই বলে কান্না করতে থাকেন তিনি।

রাবেয়া আলো আরো জানান, তিনি এখন থানায় জিডি করতে যাচ্ছেন। রাশেদ খানের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ গ্রামে। তার বাবার নাম সবাই বিশ্বাস। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি ছেলের মুক্তির দাবি জানান। রাশেদের মা তখন অঝোরে কাঁদছিলেন।

রাশেদের আত্মীয় ও বন্ধুরা অভিযোগ করেন, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাশেদকে ধরে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রাশেদের সঙ্গে থাকা মাহফুজ খান নামের অপর একজনকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ।

পরে বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, আল নাহিয়ান খান জয় নামের এক ব্যক্তির শাহবাগ থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলায় তাকে (রাশেদ খান) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সে এই মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারপরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। রোববার দুপুরে মিরপুর ১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়ের দায়ের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি