ফরিদপুরে বখাটেদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী!

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর সর্বান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা ধর্ষণ চেষ্টা মামলার বাদী ও তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুঁমকি দিয়েছে মামলার অভিযুক্ত আসামি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরিবারের সদস্যরা। বখাটেদের ভয়ে মেয়েটি এখন স্কুলে যেতে পারছে না।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ১১বছর বয়সী চর হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তার ফাঁকা জায়গায় আসলে মোটর সাইকেল নিয়ে মেয়েটির গতিরোধ করে মামলার অভিযুক্ত আসামী হরিরামপুর ইউনিয়নের ইনতাজ মোল্যার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা সেক আজিজের ছেলে মাইনদ্দিন(২৫) এবং একই গ্রামের মালেক মৃধার ছেলে আলামিন মৃধা(২০) ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা।

তারা হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে বলে ‘তোর বাপ আমাগো নামে মামলা দিছে তোরে এখন তুইলা নিয়া গেলে তোর বাপে কয়ডা মামলা দিব। বাচঁপার চাইলে তোর বাপরে দিয়ে মামলা উঠাইয়া ফেলা’। অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়েটি ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে এসব জানা যায়।

হুমকির পর শুক্রবার সন্ধার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাদী তার মেয়ের নিরাপত্তার জন্য চরভদ্রাসন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

এ বিষয়ে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা আমার কাছে আসলে আমি ডিউটি অফিসারের নিকট সাধারণ ডাইরি করতে পাঠাই পরে সে কি করেছে আমার জানা নাই। আসামী ধরার ব্যাপারে তিনি বলেন, মামলা হওযার পর থেকে আমি গাজীপুরের নির্বাচনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত থাকায় আসামী ধরা সম্ভব হয় নাই তবে আসামী ধরতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ রাম প্রসাদ ভক্ত বলেন, মেয়ের বাবা শুক্রবার অভিযোগ দিতে থানায় আসে অভিযোগটি কেন নেয়া হয়নি আমি খতিয়ে দেখছি। আসামী ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, আসামী কোথায় আছে এমন কোন লোকেসন মেয়েটির বাবা আমাদের দেয়নি। তবে আমারা আসামী ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি।

মামালার এজাহার হতে জানা যায়, গত রোজার মাসে ১জুন দুপুর ২টার দিকে প্রতি দিনের ন্যায় বাদীর মেয়ে ইন্তাজ মোল্যার ডাঙ্গী বাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন জামে মসজিদে কোরাআন শরীফ পড়ার জন্য যায় ঐ দিন উক্ত মসজিদের ইমাম ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে মক্তবের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিলেও তা জানতোনা মেয়েটি। সে মসজিদে কোরআন পড়ার জন্য একা বসেছিল হঠাৎ মামলার ১নং আসামি মাইনদ্দিন মেয়েটিকে বলে তার চাচা তাকে বাহিরে ডাকে এমন মিথ্যা কথা বলে মাদ্রাসার মাঠে যেতে বলে।

মেয়েটি মাদ্রাসার ফাঁকা মাঠে গিয়ে তার চাচাকে দেখতে না পেয়ে তার চাচা কোথায় জানতে চাইলে মাইনউদ্দিন মেয়েটির হাত ধরে মাদ্রাসার পিছনে পাটক্ষেতের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং কু প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এ সময় ২নং আসামী আলামিন মৃধা মাইনদ্দিনের সাথে ছিল। মেয়েটির সৌড় চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামীরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা গত ০৩.০৬.২০১৮ইং চরভদ্রাসন থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন মামলা নং-৩।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মাইনদ্দিন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এছাড়া সে চর হরিরামপুর ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি এর ইউনিট কমান্ডার। আলামিন ফরিদপুর সদর থানার বাকীগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল(বিএ) মাদ্রাসার আলীম পরিক্ষার্থী।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি