বিশ্বকাপে ম্যাচ দেখতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন মারাদোনা

বিশ্বকাপে ডু অর ডাই ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলে জয় গ্যালারিতে বসে দেখেছেন দিয়েগো মারাদোনা। এই ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে লিওনেল মেসির দল।

ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার ১৯৮৬-র বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক মারাদোনা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছে, স্টেডিয়ামে আসন থেকে উঠতে এবং হেঁটে যেতে অন্যদের সাহায্যের প্রয়োজন হয় তাঁর।

ম্যাচ চলাকালে মারাদোনাকে আবেগে ভাসতে দেখা যায়। মেসি যখন আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন, তখন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। পরে নাইজেরিয়া গোল শোধের পরও ম্রিয়মাণ অবস্থায় দেখা যায় তাঁকে। এরপর মার্কোস রোহোর গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যেতেই ফের উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তিনি। একইসঙ্গে ওই গোলের পর তিনি নাইজেরিয় সমর্থকদের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলির ম্যাচ-পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মারাদোনা।

আর্জেন্টিনীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারাদোনাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। যদিও সে দেশের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কম রক্তচাপের চিকিৎসা করা হয় তাঁর এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের জন্য স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যান। ১৯৮৬-র বিশ্বকাপের তারকা মারাদোনাকে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের অন্যতম বলে গন্য করা হয়।

যদিও তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ১৯৯৪-র বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন তিনি। সেখানেই শেষ হয়ে যায় তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার।

রাশিয়ায় এবারের বিশ্বকাপে তাঁকে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে থাকতে দেখা গিয়েছে। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি হাতছাড়া করায় যখন মেসির সমালোচনা হচ্ছিল, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ান মারাদোনা। ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর মারাদোনা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, তিনি খেলোয়াড়দের নিয়ে বৈঠক করতে আগ্রহী।