শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট ভোটাররা

দেশের সবচেয়ে বড় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সকাল থেকে সুষ্ঠু পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। এখনও পর্যন্ত কোন কেন্দ্রে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভোটাররা দাবি করেছেন শেষ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ যেনো এমনি থাকে।

এদিকে ভোট কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটারদের চেক করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন নিয়ে কাউকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভোট কেন্দ্রগুলোর আশপাশে কোন ধরনের গাড়ি প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনি সাংবাদিকদের গাড়ি, নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের গাড়িগুলো চেক করে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

৩৯, ৪৩, ৫৩, ৫৪, ৫৫ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে কোন বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সারিবদ্ধ হয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। ভোট কেন্দ্রেগুলোতে ঢুকেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা গিয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রের বিএনপি সমর্থকরাও ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ প্রকাশ করেছেন।

তারা জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত তারাও কোন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া বা সরকার দলীয় পক্ষের লোকদের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পায়নি। কোন ধরনের অসংগতি লক্ষ্য করেননি বলেও জানিয়েছেন এসব বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা।

এদিকে সকালে ভোট দেয়ার পর বিএনপি মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ১০ টি কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে বিএনপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

অপরদিকে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে রিটানিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমন ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানান। তিনি বলেন, এমন কোন ঘটলে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো।

অন্যদিকে কার্ড ঝুলিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা যেতে পারছেন না এমন অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, বিএনপির কর্মীরা নৌকা প্রতীকের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে বিএনপির হয়ে কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান এবং নির্বাচনের পরিবেশ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ভোটাররা যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন এজন্য নির্বাচন কমিশন সচেতন রয়েছে। আমরা ভোটপ্রয়োগে ক্ষেত্রে ভোটারদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। যেকোনো কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভোটের মাঠে রয়েছে আইনশৃংখলা নাহিনী।

আইনশৃংখলা বাহিনীর ১২ হাজার (র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার) সদস্যরা মাঠে আছেন বলে গাজীপুর পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ গণমাধ্যকে জানিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ইতোমধ্যে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৫৭টির মধ্যে ৫৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫৪জন এবং সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৮৪জন অংশগ্রহণ করছে। মেয়র পদের জন্য ৭ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে তিনি নিজ বাসভবন সংলগ্ন ৫৪ ওয়ার্ডের আউচপাড়ায় বশির উদ্দিন উদয়ন একাডেমী ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বিএনপি মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এবং সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে নিজ এলাকা কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করেন আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ নির্বাচন শুরু হয়ে চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মোট ৫৭টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন এবং নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন।