নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গাজীপুর সিটি

আগামীকাল ২৬ জুন মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত করার লক্ষ্যে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন গাজীপুরবাসী।

ভোটার ও আয়তনের দিক দিয়ে বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর। আগামীকাল এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। নির্বাচনের শেষ সময়ের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গুছিয়ে আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারই প্রথম ভোট গ্রহণ পরিস্থিতির তথ্য তাৎক্ষণিক জানার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচনে দ্বায়িত্ব থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে দু’ঘণ্টা পরপর প্রয়োজনীয় সার্বিক তথ্য কমিশন সচিবালয়কে জানাবেন। এ ছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তায় টহল দিচ্ছেন কয়েক হাজার বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্য। আচরণবিধি দেখভালে নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে বরাবরের মতোই মূল লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির মো. হাসান উদ্দিন সরকার- এ দুই প্রার্থীকে ঘিরেই চলছে যত আলোচনা। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতি ও স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যু উঠে এসেছে এ নির্বাচনী প্রচারে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গাজীপুর। ভোটের জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সম্ভাব্য সব কৌশল অবলম্বন করছে দল দুটি। এদিকে রবিবার শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়েছেন মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এখন জয় পেতে নানামুখী হিসাব-নিকাশ কষছেন তারা।

গত ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণার ৮৬ দিন পর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। গত ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও আইনি জটিলতায় মাঝপথে আটকে যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। পরে আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটায় স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এ নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে পুরো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পোশাকি সদস্যদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন উপলক্ষে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো প্রকার সহিংসতা গাজীপুরে হয়নি। আশা করি ভোটের দিন ২৬ জুন ও এর আগে-পরে কোনো সহিংসতা হবে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর সিটির বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ তল্লাশি করছে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছেন। সন্দেহভাজনদের চেক করা হচ্ছে। ভোটের নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার মধ্যরাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আজ মধ্যরাত থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। তবে হাইওয়ে ও জরুরি সেবা দেয়ার গাড়ি এর আওতামুক্ত থাকবে। এর আগে শনিবার মধ্যরাত থেকে বহিরাগতদের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়।

ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সব প্রস্তুতি শেষে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।