মোবারকগঞ্জ চিনিকলে সরকারি বেতনের ২.৮% টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে শ্রমিকদের না জানিয়ে বকেয়া মার্চ মাসের সরকার নির্ধারিত বেতন থেকে শতকরা ২.৮% টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চিনিকলটির শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, শ্রমিকদের গত মার্চ মাসের বেতন ২৭ মে প্রদান করে মোবারকগঞ্জ চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে তারা সরকার নির্ধারিত বেতনের ২.৮% টাকা কম তোলেন। মিলের স্থায়ী ও অস্থায়ী (ক্রাসিং) শ্রমিক কর্মচারীদের না জানিয়ে টাকা কর্তন করা হয়। চিনিকলের একাধিক শ্রমিক-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমনিতে ৩ মাসের বেতন বকেয়া ছিল। গত ২৭ মে মার্চ মাসের বেতন তুলতে গিয়ে দেখি সরকার নির্ধারিত বেতনের ২.৮% কর্তন করা হয়েছে। চিনিকলের শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে গেট মিটিং করা হয়। কিন্তু বেতন কর্তনের বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারিদের নিয়ে গেট মিটিং করা হয়নি। সরকারি বেতন কেন কম দেওয়া হবে? এমন প্রশ্ন সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান বলেন, বিষয়টা সবাইকে জানানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু কিছু গন্যমান্য ব্যক্তি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও চিনিকল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২.৮% টাকা কর্তন করা হয়েছে। চিনিকলের অবিক্রিত চিনি কম দামে বিক্রি করায় বেতন থেকে ২.৮% কম দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চিনিশিল্পের অবস্থা বেশি ভালো না। বিশ্বব্যাংকের ঋণ শোধ করতে গিয়ে এমন সমস্যা হয়েছে। এখনো মার্চ মাসের বকেয়া বেতন সবাই পায়নি বলেও জানান তিনি। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ আলী শিকদার বলেন, চিনি শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের নির্দেশে একজন শ্রমিকের বেতনের টাকার পরিবর্তে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে চিনি দিয়েছে। বেতনের সম্পূর্ণ টাকার চিনি আমরা তাদের দিয়েছি। এখানে কম দেওয়ার কিছু নেই।

কিন্তু শ্রমিকদের ২.৮% কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিনিকলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি/সম্পাদকেরা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনের চিনি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের কাছে দেওয়া হয়েছে।

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি