স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও বাস্তবায়িত হয়নি খেয়াঘাটে একটি সেতু!

স্বাধীনতার প্রায় চার যুগ পার হলেও নির্মাণ হয়নি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আত্রাই নদীর ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে একটি সেতু। নির্বাচনের আগে এলাকার মানুষকে সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিরা আশার ফুলঝুড়ি দিলেও ৪৭ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি এলাকার দীর্ঘ দিনের লালায়িত স্বপ্নের সেতুটি।

ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটি এ সেতুর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আন্দোলনকারীরা মানববন্ধনসহ স্থানীয় বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারক লিপি প্রদান করেছেন। নেতৃবৃন্দ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কবে হবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি কেউ।

সেতুটি নির্মাণ না হওয়ার ফলে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন,খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন সহ ঠাকুরগাঁও এবং নীলফামারী জেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ এই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলেই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হয়।

সরজমিনের গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও একটি বাঁশের সাকো দিয়ে নদী পার হতো সবাই। কিন্তু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এখন নৌকাই একমাত্র ভরসা এই এই এলাকার মানুষের। হাট বাজারসহ জরুরি প্রয়োজনে নৌকাই একমাত্র ভরসা। রিকশা-ভ্যান না চলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের মোঃ আইনাল হকের ছেলে নীলফামারী সরকারী কলেজের বাংলা (অনার্স) বিভাগের ছাত্র মোঃ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনও বাঁশের সাকো আবার কখন নৌকা দিয়ে নদী পেরিয়ে স্কুল-কলেজ যেতে হয়েছে। স্বপ্ন দেখতাম একদিন সেতু পেরিয়ে স্কুল-কলেজ যাবার। কিন্তু কলেজ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। সেতুটির প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না। আশা করছি এই নদীতে দ্রুত একটি সেতু নির্মান হবে।

খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের মকফুর আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘জীবনটায় শ্যাষ হয়া যায়ছে, পুল আর দেখির পানু না। ম্যালা মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি,মন্ত্রী কয়া গ্যালো কামের কাম কিছুই হয়ছে না।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, ‘ছোটবেলা থেকে দেখি আসুছু নদীটির ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো। এলাও ওরকমই আছে। বিয়ে হয়ে শ্বশুড়বাড়ি গেনু। এ্যালাও ব্রিজ হইল না।’

ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটি’র আহবায়ক শেখ মোঃ জাকির হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে নীলফামারী সংযোগ সড়কের জন্য ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেঁয়াঘাটে সেতু নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছি। আমরা মনে করি এই সেতুটি নির্মিত হলে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ দিনাজপুর জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে, ব্যাপক ভৌত অবকাঠামোগত পরিবর্তন হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটবে, উন্নত চিকিৎসা হাতের নাগালে আসবে, কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং এই পরিবর্তনের মধ্যদিয়েই এই অঞ্চলের মানুষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত “ভিশন-২১” বাস্তবায়নে অংশীদ্বারিত্ব লাভ করবে। অথচ এই একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ার কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। তাই সেতু নির্মানের জোড় দাবি জানাচ্ছি।

জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে পূর্ব দিকের নীলফামারী জেলার ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে খানসামা উপজেলা, আত্রাই নদীর পশ্চিমে ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ঠাকুরগাঁও ২২ কিলোমিটার মধ্যে পড়ে ঝাড়বাড়ী হাট, বাহাদুর বাজার ও গড়েয়া হাট। এছাড়া ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা এবং দক্ষিণে ২০ কিলোমিটার দুরত্বে বীরগঞ্জ উপজেলার সদরের অবস্থান রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া, শুখানপুকুরী, বালিয়া, আকচা,পঞ্চগড় জেলার চেংঠী হাজরাডাঙ্গা, সুন্দরদিঘি, ডন্ডপাল ইউনিয়নের বাসিন্দারা আত্রাই নদী পাড়ি দিয়ে নীলফামারী সদর হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অথচ ঝাড়বাড়ী -জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চার জেলার কয়েক লাখ মানুষ। আত্রাই নদীর এ অংশে একটি সেতু হলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলার সঙ্গে নীলফামারী জেলার সরাসরি যোগাযোগ শুরু হবে।

শেখ মোঃ জাকির হোসেন, বিরগঞ্জ প্রতিনিধি