দিনাজপুর বড়পুকুরিয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ৮ম দিন আজ

১৩ দফা দাবিতে দিনাজপুর বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনির শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী ৮ম দিনের মত আন্দোলন অব্যাহত হয়েছে।

২০ মে রবিবারেও শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে কয়লা খনির মূল গেটের সামনে কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানায়, ১৩ দফা দাবির সাথে শ্রমিকদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ শ্রমিকদের উপর হামলাকারী কর্মকর্তাদের বহিস্কারের দাবি যুক্ত হয়েছে। তারই লক্ষ্যে আজ ও আগামীকাল শাক্তিপূর্ন ভাবে কর্মবিরতি পালন করা হবে। আগামীকাল ২১ মে সোমবার খনি কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের একটি বৈঠক রয়েছে। ২১ মে তারিখে খনি কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে না নিলে, ২২ মে তারিখ হতে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারী দেয় এই শ্রমিক নেতা। এদিকে কয়লা খনির কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর গত ২৬ এপ্রিল তারিখে ১৩ দফা দাবি প্রদান করা হয়। ১২ মে পর্যন্ত দাবি মানার শেষ দিন থাকলেও কর্তৃপক্ষের সারা না পেয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৩ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিসহ অবস্থান নিয়েছে শ্রমিকেরা। ১৫মে মঙ্গলবার ১৩দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির গেটে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও অবস্থান নেয়। এসময় সকাল ৯টায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনকারীরা ভিতরে প্রবেশ করা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইলে পুলিশসহ দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়। পরে পার্বতীপুর থানায় ৩৫ জন শ্রমিককে আসামী করে ২টি মামলা করে খনি কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের দাবি সমূহঃ সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে কাজ করলে প্রাপ্য মুজুরি প্রদান, কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে একই সার্কুলারে কর্মচারী নিয়োগসহ আউট সোর্সিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ, প্রফিট ও অন্যান্য বোনাসসহ বৈশাখী ভাতা প্রদান, নিয়মানুযায়ী অভার টাইমের টাকা প্রদান, সকল আন্ডার গ্রাউন্ড শ্রমিকদের ৬ঘন্টা ডিউটিসহ ১৩ দফা দাবিতে শ্রমিকরা খনি কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে প্রদান করেন।

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি