সরকার রান্না করা কৌটাজাত মাংস বিক্রি করবে দেশের বাজারে!

বেসরকারি উদ্যোগে এত দিন হালাল মাংস রপ্তানি হয়ে আসলেও এবারই প্রথম সরকারি উদ্যোগে ইউরোপ ও আমেরিকায় হালাল মাংস রপ্তানি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশের আদলে রান্না করা কৌটাজাত মাংসও দেশের বাজারে বিক্রির চিন্তা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, এ পর্যন্ত দেশের পোলট্রিশিল্পে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আগামী ৫ বছরে এ শিল্পে বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের মাংসের বার্ষিক চাহিদা ৭০ লাখ টন, যার পুরোটাই এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। তাই সরকারিভাবে বিদেশে মাংস রপ্তানির চিন্তাও করা হচ্ছে।

রপ্তানিজাত মাংস উৎপাদন ও প্রক্রিয়ার জন্য ইপিজেডের মতো একটি বিশেষ অঞ্চল করা যায় কিনা, তা-ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র ।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাবিশ্বে হালাল মাংসের বাজার চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের (এক লাখ কোটি ডলারে এক ট্রিলিয়ন)। ফলে এই বাজারে বাংলাদেশও ঢুকতে চায়।

মন্ত্রী জানান, বিদেশি ক্রেতারা এটা বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত মাংস স্বাদে অতুলনীয়। তাই তাদের আগ্রহ বেশি। ব্রাজিল সরকার হালাল মাংস রপ্তানিসহ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে কারিগরি সহযোগিতা দিতে চায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হস্তান্তর করেছেন। আমরা তাদের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিজেদের মতামত জানাব।

বিষয়টি    এগিয়ে নিতে  আগামী ১৫ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি দলের ব্রাজিল সফর করার কথা রয়েছে। এ সময় দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পশুপালন ও প্রক্রিয়া যে এলাকায় হবে, ওই নির্দিষ্ট এলাকা রোগমুক্ত ঘোষণা করতে হয়। প্রথমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এটি করার পর ওয়ার্ল্ড অ্যানিমেল হেলথ অর্গানাইজেশন থেকেও ছাড়পত্র নিতে হয়।