ট্রেনে কাটা পড়ে পা হারানো রাসেলের পাশে ওবায়দুল কাদের

‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান’ কাউকে দেখলে এভাবেই চিৎকার করে যাচ্ছে ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত অসহায় রাসেল।

গত রবিবার (১৩ মে) একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পা কাটা পড়ে। স্টেশন থেকে কে বা কারা যেন উঠিয়ে পঙ্গু হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ফেলে চলে যায়। ডাক্তাররা সামান্য ব্যান্ডেজ করে বেডের চিপায় ফেলে রেখেছে।

সুত্রে জানা যায়, রাসেল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারের পাশে ৫ নং চরদরবেশের বসর ডাক্তার বাড়িতেই আপাতত বসবাস করেন। পিতার মৃত্যুর পর দাদার বাড়িতে ঠাঁই হয়নি রাসেলদের। অসহায় ও করুন জীবন যাপন করছিলো তারা। তাই ছোট তিন বোন আর ১ ভাইকে নিয়ে নানার বাড়ির পাশে অন্যের গৃহে অস্থায়ী বসবাস করেন।

অন্যদিকে ট্রেনে পা কাটা পড়ে অসহায় অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালের ফ্লোরে পড়ে থাকা রাসেলকে (২১) নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হয়েছিলো।

ডাক্তাররা জানায়, দ্রুত অপারেশন না করলে তাকে বাঁচানো কঠিন হবে। যেখানে দু ‘মুঠো ভাতের যোগান দিতে পরিবারটি পারছে না, সেখানে অপারেশন খরচ যোগান তো কঠিন ব্যাপার।

বিষয়টি জানতে পেরে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আস্থাভাজন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নুরুল করিম জুয়েল পঙ্গু হাসপাতালে দেখতে যান। এসময় তাৎক্ষনিক বিষয়টি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে জানালে তিনি সাথে সাথে হাসপাতালের পরিচালককে ফোন করে সুচিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেন এবং শনিবার অপারেশনটি করানোর জন্য বলেন।

এবিষয়ে নুরুল করিম জুয়েল জানান, গত কয়েকদিন ফেসবুক ও বিভিন্ন নিউজে প্রচার হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রাসেল রেল লাইনে ট্রেনে পাঁ কাটা যায়, কিন্তু পিতা হারা রাসেলের সুচিকিৎসা হচ্ছে না অর্থের অভাবে। আজ বিকালে দায়িত্ববোধ থেকে রাসেলকে দেখতে গিয়েছিলাম ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে রাসেলের মা কান্না কন্ঠে আমাকে জানাই আমার ছেলেকে বাঁচান। আমি তাৎখনিক প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের স্যারকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক ডা: আব্দুল গনি মোল্লা সাহেবকে টেলিফোনে নির্দেশ প্রদান করেন সব ধরনের সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন বলেও জানান প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের এমপি।