রাজীবের ক্ষতিপূরণ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন বিআরটিসির

দুই বাসের টক্করে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীবের দুই ভাইকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি এবং স্বজন পরিবহনের মালিককে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। আর আজ বিটিআরসির আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২১ মে সোমবার আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার রাজীব ক্ষতিপূরণে আপিলের আদেশ নিয়ে আদালতে এই দিন ঠিক করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ।

জানা যায়, আদালতে বিআরটিসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ বি এম বায়েজীদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান। রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। স্বজন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন পংকজ কুমার কুন্ডু।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুইভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের মালিককে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ একমাসের মধ্যে দিতে বলা হয় দুই বাস কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু বিআরটিসি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১০ মে আপিল আবেদন করে। ১৩ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি ১৭ মে শুনানির জন্য পাঠান।

আর বৃহস্পতিবার আবেদনটি শুনানির জন্য বিআরটিসির পাশাপাশি  স্বজন পরিবহনের পক্ষে আইনজীবী হাজির হন। ৮ মে হাইকোর্ট রাজীবের খালা জাহানারা পারভীন ও রাজীবের গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নামে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি যৌথ হিসাব খোলার নির্দেশ দিয়েছেন।

হিসাবে একমাসের মধ্যে দুই বাস কর্তৃপক্ষ ২৫ লাখ করে মোট ৫০ লাখ টাকা জমা দেবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আদালতকে দুই কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে বিষয়টি জানাবেন।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ২৫ জুন এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন বাকি ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ আসতে পারে।