সৃষ্টির সেরা নবজাতক ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার

মানুষ আশরাফুল মাকলুকাত সৃষ্টির সেরা জীব। মহান আল্লাহ্ আঠার হাজার মাকলুকাতের মধ্যে শুধু মানুষকেই দান করেছেন শ্রেষ্ঠত্ব। বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান আর মানবতার কারণে মানুষ চিরকালই মানুষ তবু কখনো কখনো কিছু মানুষরূপী অমানুষের কারণে মানুষই তার শ্রেষ্ঠত্ব হারায়। হয়ে যায় পশুর চেয়েও নরাধম।

 

বামে সোহেল রানা, দানে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক

একটি মানবশিশু সবসময় পবিত্র ও নিষ্পাপ। মানুষের স্বর্গসম সুখের ফসল হিসেবে দুনিয়াতে আসে। সেই নিষ্পাপ, পবিত্র একজন মানুষকে মানুষই ছুড়ে ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। এ যেন মানুষ ও মানবতার নির্মম পরিহাস। গতকাল ১১-০৫-২০১৮ সকাল আনুমানিক ১০টা। সোহেল রানা নামক একজন ভদ্রলোক কাওলার বাজার ডাচ বাংলা ব্যাংকের কাছে ডাস্টবিনে একটি মানবশিশুর কান্না শুনতে পায়। তার সাথে কথা হোলে তিনি জানালেন, বাচ্চাটি জীবিত ছিল। ফুটফুটে বাচ্চাটির শরীরে বড় লাল পিপড়ার কাঁমড়ের দাগ। নাকে মুখে ফেনা ও সারা গায়ে পিপড়া আর পিপড়া”।

কেঁদে উঠলো তার মন। চোখের সামনে একটি ফুটফুটে, নিষ্পাপ, নিরপরাধ মানবশিশুর মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সাথেসাথেই শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হল কুর্মিটোলা হাসপাতালে। দায়িত্বরত চিকিৎসক জানালেন “শিশুটির এক পা ভেঙ্গে দুই টুকরা। হয়তো বা খুব জোরেশোরে লাল ব্যাগটি ছুড়ে ফেলা হয়েছে। শিশুটির সার্বিক অবস্হা ভাল না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব, বাকিটা আল্লাহ ভরসা”। সারাদিন চেষ্টা চালানোর পর রাত্রে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে জনাব সোহেল রানা তার সাথে একজন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যকে নিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেশী হওয়ায় রেডিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে।

অত্র দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানায় কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জনাব মিজানুর রহমান মিজান আর দেরী করতে পারলেন না। তিনি সকালে উঠেই চললেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনি শিশুটিকে দেখলেন। নিজের অজান্তেই চোখে এলো ক’ফোটা পানি। তিনি কর্তব্যরত ডাঃ কে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে বললেন। সবার উদ্দেশ্যে বললেন মহান আল্লাহ’র কাছে দোয়া করতে যেন শিশুটি বেঁচে যায়। তিনি এই ডেইলি মেইল ২৪ কে জানান- “একটি শিশু একটি সুন্দর জাতী, একটি সুন্দর ভবিষ্যত। শিশুটি জানেনা তার অপরাধ কি! যে মা তাকে গর্ভে ধারণ করলেন তিনি কেন ফেলে দিলেন! মানুষ কিভাবে এতটা নির্মম হতে পারে! এই বাবুটা আশরাফুল মাকলুকাতের সন্তান হিসেবে জন্ম নিয়ে আশরাফুল মাকলুকাত সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করবে! এভাবে আর কত! কবে আমরা সত্যিকার মানুষ হতে পারব!”।

হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্স জানান- “মোহাম্মদপুরে ডাস্টবিনে পাওয়া শিশুটিও এখানে চিকিৎসাধীন আছে। এখন সময় এসছে ডাস্টবিনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর। যাতে এইসব নরপিশাচ সনাক্ত করে ক্রসফায়ার দেয়া যায়”। রাজধানীসহ সারাদেশে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এখন নিত্যকার বিষয়। আমরা আধুনিক ডিজিটাল যুগে বসবাস করলেও আজো আমাদের মন মানসিকতা আদিমতার পরিচয় বহন করে। একটি শিশু একটি সোনালী সকাল, একটি নতুন পৃথিবী। সেই নতুন পৃথিবী ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়-অন্যায় তথা পৃথিবীকে বুঝে ওঠার আগেই আমরা ছুড়ে ফেলি ডাস্টবিনে। হত্যা করি সুন্দর স্বপ্নের আগামী। তবু না’কি আমরা আশরাফুল মাকলুকাত সৃষ্টির সেরা জীব???

তবে শিশুটির ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়ে চলছে কিছুটা সংশয়। শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়া সোহেল রানা নামের সেই ব্যক্তি শিশুটির সার্বিক সকল দায়িত্ব নেয়াড় আর্জি জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে এখনো শিশুটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।