জমি অধিগ্রহনের কথা শুনে ঝিনাইদহে ১৫ গুন বেশি দামে জমি কেনাবেচা!

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২১৩ নং আড়–য়াকান্দি মৌজায় অস্বাভাবিক দামে কয়েকটি দলিল করা নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে শহরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের কান পর্যন্ত পৌছে গেছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, আড়–য়াকান্দি মৌজায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অবস্থিত। ইতিমধ্যে কলেজটির ক্যাম্পাস বাড়ানোর জন্য তিন একর জমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন পড়ে। এ কথা এলাকার একটি মধ্যসত্বভোগী মহল জনতে পেরে সাবরেজিষ্টারের সহায়তায় অস্বাভাবিক দরে দলিল করে। ঝিনাইদহ সাব রেজিষ্টার অফিস থেকে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আড়–য়াকান্দি মৌজায় জমির সর্ব্বোচ মৌজা রেট ২০ হাজার টাকা। কিন্তু ওই মৌজায় হঠাৎ করেই প্রতি শতক ৩ লাখ টাকা করে জমি কেনা বেচা হচ্ছে।

জমির মালিকদের সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার অসাধু চক্রটি প্রকারন্তরে সরকারী টাকা পকেটস্থ করার ছক তৈরী করে। অভিযোগ পাওয়া গেছে গত ২০ ফেব্রয়ারী ১৮৪৯ নং দলিলে ১১ শতক জমি বিক্রি দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ টাকায়। এই দলিলে আড়–য়াকান্দি গ্রামের আনোয়ারা খাতুন বিক্রি করেন একই গ্রামের কবির হোসেনের কাছে। একই ভাবে আমেনা খাতুনের ২৭ শতক জমি ৮১ লাখ টাকা মুল্যে মিলনের কাছে বিক্রি হয়। যার দলিল নং ১৮৫১, তারিখ ২০ ফেব্রয়ারী ২০১৮। একই তারিখে ১৮৭১ নং দলিলে আসমত আলী ১০ শতক জমি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন শাহানারা খাতুনের কাছে। জমি কেনাবেচার টাকা দেলনদেনের জন্য ঝিনাইদহ এবি ব্যাংকে কৃষকদের নামে একাউন্ট খোলা হয়েছে।

সুত্রমতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কতিপয় কর্মকর্তা ছাড়াও পোড়াহাটী ইউনিয়নের একটি দালাল চক্র এই জমির মুল্যবৃদ্ধির পেছনে হাত রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে না আসলে সরকারের প্রায় ৪ কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোদেজা বেগম জানান, অস্বাভাবিক মৌজা রেটে জমি কেনাবেচা হলে তার জন্য সাব-রেজিষ্টার দায়ী থাকবেন। তিনি বলেন আমরা জমির গড় মুল্য করে তবেই ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপরনের টাকা দেব।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, জমি অধিগ্রহনের কথা শুনে এ ধরণের দলিল করা অন্যায়। তিনি বলেন আমরা আড়–য়াকান্দি মৌজায় জমির গড় রেট সাবরেজিষ্টার অফিস থেকে সংগ্রহ করেছি। সেটা প্রতি শতক ৩৬ হাজার টাকা। সাবরেজিষ্টার যে মুল্য তালিকা দিবেন তার ভিত্তিত্বেই ক্ষতিপরণের টাকা কৃষকদের দেওয়া হবে।

সাবরেজিষ্টার মৃত্যুঞ্জয়ী শিকারী জানান, যে কেও মৌজা রেটের চেয়ে বেশি দামে জমি কিনতে পারে। তবে আড়–য়াকান্দি মৌজায় যদি এমন কোন দলিল হয়ে থাকে তবে সেটা আমাদের অসাবধানতার কারনে হতে পারে।

 

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি