দিনাজপুরে বোরো ধানের বাম্মার ফলন, কৃষক চায় ন্যায্য মূল্য

দেশের সিংহভাগ ধান উৎপাদন হয় ধানের জেলা দিনাজপুরে। এবারের শীতসহ গতবছরের বন্যার করনে একটু দেরি করে ধান পাকলেও ফলন হয়েছে বাম্পার। বিসতৃর্ন এলাকা জুড়ে ধান পাকার দৃশ্য এখন গ্রামের সব জায়গায়। আবার সেই ক্ষেতে খন্ড খন্ড ভাবে চোখে পড়ছে ধান কাটার উৎসব।

বোরো মৌসুমের এ জেলায় এবার ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ২৯, ব্রি ধান ৫১সহ বিভিন্ন জাতের ধান কর্তন করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে পোকার আক্রমন বেশি থাকলেও এবছর ধানে তা অনেকটা কম। সে কারনে ধান ভাল হয়েছে অভিমত কৃষকের। ইতি মধ্যে এ জেলায় ১৫শতাংশ জমির ধান কর্তন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী ১০দিনের মধ্যেই ধান কর্তন প্রায় শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। বিরল, বীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ, চিরিরবন্দর উপজেলাসহ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পড়েছে ধান কাটার ধুম। তাই কৃষকের নিশ্বাস নেয়ার সময় নেই এখন। কৃষি শ্রমিকসহ ধান কাটা ও মাড়াই যন্ত্রের বেশ কদর বেড়েছে এই সময়। অন্যান্য সময়য়ের চেয়ে ধান কর্তনের সময় বেশ রোজগার হয় তাদের।

কৃষকরা জানালেন এবারে ধান ভাল হয়েছে কিন্তু ধানের দাম কিছুটা কম। গতবার এসময় ধানের দাম বস্তা প্রতি ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা থাকলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৩শ টাকায়। তবে সরকার সরাররি কৃষকের কাছে ধান ক্রয় করলে ন্যয্যমূল্য পাওয়ার আশা চাষীদের।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানালেন পোকার আক্রমন থেকে কৃষকদের সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দিনাজপুরে প্রায় আড়াই লক্ষ পোকা দমন ও প্রতিরোধমূলক লিফলেট কৃষকের হাতে বিলি করা হয়েছে। যে কারনে পোকার আক্রমন অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক কম। তবে আশা করছি এই বোরো মৌসুমে চালের লক্ষমাত্রার চেয়ে ১লক্ষ মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন হবে।

জেলায় প্রায় ১লক্ষ ৭৭হাজার হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে এবং চালের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৭লক্ষ মেট্রিক টন।

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি