নির্বাচন স্থগিতাদেশ নিয়ে কি বললেন নির্বাচন কমিশনার?

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে আদালত নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘আমরা এ রিটের বিষয়ে হিয়ারিংয়ের আগে জানতাম না। হিয়ারিং হওয়ার পর জেনেছি। এ বিষয়ে আমরা আগে কিছু জানতাম না। গণমাধ্যম থেকে বিষয়টি জেনেছি।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তকে আমরা অনার করছি। বিষয়টা কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। আমি এতটুকু বলতে পারি।’

এদিকে সংবিধানে উল্লেখ আছে, ‘তফসিল ঘোষণার পর আদালত নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করে নির্বাচন স্থগিতের কোনো আদেশ প্রদান করতে পারবেন না।’ প্রসঙ্গত, সীমানাবিরোধ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার হাইকোর্ট গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের মুখোমুখি হন। এ সময় সাংবাদিকরা কমিশনারকে সংবিধানের ১২৫ (গ) ধারাটি পড়িয়ে শোনান।

সংবিধানের ১২৫ (গ) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কোনো আদালত, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এরূপ কোনো নির্বাচনের বিষয়ে, নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, অন্তর্বর্তী বা অন্য কোনোরূপে কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবেন না।’ ‘আদালত এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগে জানিয়েছেন কি না’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘আমরা এ রিটের বিষয়ে হিয়ারিংয়ের আগে জানতাম না। হিয়ারিং হওয়ার পর জেনেছি।’

আইনমন্ত্রী অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি ইসি জানাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘বিষয়টা কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। আমি এতটুকু বলতে পারি, আদালতের সিদ্ধান্তকে আমরা অনার করেছি।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘আমরা কোনো আইনজীবী ওখানে নিয়োগ দেইনি। আমাদের আইজীবী প্যানেল আছে। সে প্যানেলভুক্ত একজন আইজীবী রিটের একটা কপি পেয়েছিলেন। কপি পাওয়ার পর উনি হিয়ারিংয়ে ছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে অফিসিয়ালি নিয়োগপত্র দেইনি। তাকে ওকালতনামা দেয়ার মতো সুযোগ ছিল না আমাদের।’

তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাচ্ছে এতে জনগণের মনে নির্বাচন ও ইসিকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতের কাছে যেতে পারেন। আইন তাকে সে সুযোগ দিয়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার থেকে ক্লিয়ারেন্স নেয়ার পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করি। আমরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার থেকে দুবার ক্লিয়ারেন্স নিয়েছি। তারা জানিয়েছে, সেখানে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। তারা আমাদের নির্বাচন করতে বলেছে।’

‘তবে অন্য সিটি নির্বাচন নিয়ে অ্যাডভান্স বলা যাবে না। কী কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে বিষয়গুলো যখন ক্লিয়ার হবে, তখন জনগণের মনে শঙ্কা থাকবে না।’

তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন রংপুর ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মতোই সমাপ্ত করতে পারবে। প্রসঙ্গত আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি নির্বাচন। কমিশন এখন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে আপিল করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘আমরা এখন অফিসিয়ালি বিষয়টি পাইনি। লিখিত আদেশ পেলে কমিশন বৈঠকে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

ইসির পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এখনও রিটের সারমর্ম পাইনি। আশা করি দ্রুতই লিখিত আদেশ পাব।’

মানুষ জানতে চায় সিটি নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে, কিন্তু এর দায় কার, নির্বাচন কমিশনের এখানে হাত আছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘দায় কার এটা বলার সুযোগ আমার নেই। তবে আমি বলতে পারি কমিশনের কোনো গাফিলতি ছিল না।’

আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। রোববার একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে গাজীপুর সিটি নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সেটির বিষয়ে কোনো রিট দায়ের হয়নি।

গত ৪ মার্চ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নিয়ে গেজেট জারি করা হয়। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, দক্ষিণ পানিশাইল ও ডোমনাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০১৫ সালে এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ ওই মৌজাগুলো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে বাদ দিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সাড়া না দেয়ায় তার আবেদনের নিষ্পত্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আজহারুল ইসলাম। রিটে নির্বাচন কমিশন যেন তার আবেদনের নিষ্পত্তি করে সে আর্জি জানানো হয়।

তখন হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।