‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে মিয়ানমারের শিক্ষা দরকার’

মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি কিভাবে রক্ষা করে রাষ্ট্র চালাতে হয় সে বিষয়ে মিয়ানমারের শিক্ষা নেয়া উচিত। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা যদি আমরা দেখি সেটা সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, সকলের সঙ্গে মিলে চলা। সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করা, এটাই তো ছিল গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা।

বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রোববার গণভবনে বৌদ্ধ ধর্মের নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আর বাংলাদেশ -আমরা যদি সকল ধর্মকে দেখি সেখানেও এই শিক্ষাটাই পাই। ধর্মে ধর্মে সংঘাত, অশান্তি সৃষ্টি হোক সেটা কিন্তু কোনো ধর্মেই বলে না।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনারা দেখেন মিয়ানমারে কিভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার করেছে, অমানবিক অত্যাচার। রোহিঙ্গা আসার ঢল দেখে স্বাভাবিকভাবে আমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। সাথে সাথে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিই। এটুকু আমরা দাবি করতে পারি, মানবিক কারণে আমরা শুধু তাদের আশ্রয়ই দেইনি; ওখানে কোনোরকম সংঘর্ষ যেন না হয়, কোনো রকম সহিংসতা স্থান যেন না পায় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশি দেশ হিসেবে তাদের সঙ্গে কোনো রকম সংঘাতে যাইনি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রচেষ্টা কিন্তু অব্যাহত রাখছি। যে কারণে সারাবিশ্ব আজকে প্রশংসা করছে। যেকোনো ধর্মের মানুষের জন্মভূমিতে, মাতৃভূমিতে তাদের অধিকার রয়েছে। সে অধিকারটাও সংরক্ষণ করা দরকার। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া দরকার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ ও সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত এটুকু আমরা দাবি করতে পারি যে, আমরা সরকার গঠন করার পর সেই পরিবেশটা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে প্রতিটি সংগ্রামে এদেশের সব ধর্মাবলম্বীরাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে।

২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে চাকরি এবং সর্বক্ষেত্রেই আমরা সবাইকেই নিয়োগ দিচ্ছি। এখানে কিন্তু ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নাই।