খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি হবে ৮ মেঃ নজরুল

‘৮ মে সুপ্রিম কোর্টে খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি হবে। সেদিন জামিন হলেও ওনার মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ অন্য এক বিচারক তাকে শুনানির জন্য তারিখ দিয়েছে ১৫ মে। অর্থাৎ ১৫ মে’র আগে তার জামিন হবে না’, বলেছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

আজ (সোমবার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ মা সম্বোধন করে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) জন্য লাখো কোটি মানুষ জীবন দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এতে মানুষ খুশি হয়েছে। আমাদের শক্ত আন্দোলন করতে বলছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।’

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির প্রয়াত নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দলের চেয়ারম্যান আবু তাহের এতে সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে এনডিপি মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘৮ মে আগামীকাল তার (খালেদা জিয়ার) জামিনের শুনানি আছে। কিন্তু মঙ্গলবার যদি সুপ্রিম কোর্ট তার জামি বহাল রাখেনও তাহলেও অন্য মামলায় শোন অ্যারেস্টের কারণে তিনি মুক্ত হতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার নানা কৌশলে খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখার চেষ্টা করতে পারে। আমরা একটা শোন অ্যারেস্টের জামিন করালাম, সরকার সরকার চাইলে তাকে আরেক মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারে। কারণ কুমিল্লার বিচারক খালেদা জিয়ার শুনানির আবেদনের পরবর্তী তারিখ দিয়েছেন ১৫ মে। হাইকোর্ট জামিন দিলে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়; অর্থাৎ সরকার চায় না বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হোক।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে লক্ষ কোটি মানুষ খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা করে আজ ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন। ‘মা’ সম্বোধন করে শ্লোগান হয়। মায়ের জন্য এদেশের লক্ষ্য কোটি মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত।’

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত একই সূত্রে গাঁথা। তারা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখন একই ধরনের দোতারা বাজাচ্ছে। সরকারি দলের যিনি প্রধান তিনিই স্বীকার করেছেন যে ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রশ্নবোধক ছিল।’

ইসলামিক পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল মোবিন অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এমন মন্তব্য করে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী বলেন, খালেদা জিয়া তাকে পছন্দ করতেন। তার সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেছেন।