রাজধানীতে আলোচিত ‘ট্যাবলেট মিজান’ ওরফে ‘সোর্চ মিজান’ গ্রেফতার 

যেকোন নাটক বা সিনেমার কাহিনীকে হার মানিয়ে পর্দার অন্তরালে থেকে ভিলেন স্বরূপ যে মানুষটি দাপুটে ভাব নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরে বেড়াতো, যে নিজেকে বিশাল শক্তিধর মনে করে যখন তখন যে কাউকে ফাঁসিয়ে দিত আর অন্তরালে চালিয়ে যেত মাদকের সম্রাজ্য- এই সেই কুখ্যাত ট্যাবলেট মিজান ওরফে সোর্চ মিজান (৩৭)। গতকাল রাত আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় উত্তরখান থানা (ডি এম পি) পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ হাতে নাতে গ্রেফতার করে।

ঘটনায় প্রকাশ, সোর্চ মিজান ওরফে ট্যাবলেট মিজান দীর্ঘ দিন যাবৎ অত্র উত্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলো।এমন সুচতুর ও ধূর্ততার সাথে ব্যবসা করত যে, সে সব সময় পর্দার আড়ালেই ভিলেনের মত রাজত্ব করতো। তার সাথে থাকা কোন সাব ডিলার লেনদেনে কোন ঘাটতি করলেই তাকে ধরিয়ে দেয়া হতো পুলিশের হাতে। এভাবেই দিনে দিনে দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানা জুড়ে তার নাম ছড়িয়ে পরে ‘সোর্চ মিজান’ ওরফে ‘ট্যাবলেট মিজান’। সামান্য একজন লেগুনা গাড়ীর চালক থেকে এতটা প্রভাব ও পতিপত্তির উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশ ছিল তৎপর। সে লক্ষেই উত্তরখান থানা পুলিশ গতকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় উত্তরখান কাঁচকুড়া বাজার সংলগ্ন রাজভোগ মিষ্টান্ন ভান্ডার সম্মুখে পাকা রাস্তা হতে সোর্চ মিজান কে (৫০০) পাঁচশত পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাতে নাতে গ্রেফতার করে এস আই মাহবুবুল আলম ও তার চৌকস টিম। এ সময় তার সঙ্গীয় লোকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

জানা যায়, মিজানের গ্রামের বাড়ী নয়নপুর, থানা-রামগন্জ, জেলা-লক্ষীপুর। তার পিতার নাম -আ: হাই বেপারী। বর্তমানে সে বেপারী পাড়া, (ডাক্তার জাফর উল্লাহ সাহেবের বাড়ী), কাঁচকুড়া, থানা:-উত্তরখান, ঢাকার বাসায় থাকতো। লোক মুখে জানা যায়, সোর্চ মিজান নিজেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছোট ভাই, কখনো নিজেকে ডিবি পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে আসত। তার ভয়ে কেউ সাহস পেতোনা। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে ট্যাবলেট মিজান তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিত।

কাঁচকুড়া এলাকার কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দা এই প্রতিবেদককে জানান- সোর্চ মিজান ওরফে ট্যাবলেট মিজান গ্রেফতার হওয়ায় আমরা খুশি ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। মিজান গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে ও মিষ্টি বিতরন চলছে।সোর্চ মিজানের প্রকৃত বিচার হোক এটাই আমরা কামনা করছি।

উত্তরখান থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো:হেলাল জানান, ‘দীর্ঘ দিন যাবৎ আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাকে গ্রেফতারের।অবশেষে গতকাল আমরা সফল হয়েছি। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি যার নং-৬, তাং- ০৬/০৫/২০১৮ ইং।’ উওরখান-দক্ষিণখান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান- ‘কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। অন্যায়কারীর বিচার হবেই। পুলিশ বাহিনী আইনের ধারক ও বাহক। কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।’

নিজস্ব প্রতিনিধি