সালথায় ৪ দপ্তরে চুরির ১৯ দিনেও সনাক্ত হয়নি চোর, পুলিশ নীরব

সিসি ক্যামেরায় চোরের ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের ৪ দপ্তরে চুরির ১৯ দিন পরও সনাক্ত হয়নি চোর। ১৬ এপ্রিল চুরির এ ফুটেজে দেখা যায় মধ্য বয়সী এক ব্যাক্তি চুরির এ কাজে অংশ নেয়। এ চোর উপজেলার ৪টি দপ্তরের ৯ ষ্টীল আলমারী ভেঙ্গে দাপ্তরিক কাগজপত্র তছনছ করে।

এ সময় সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক আলমারীতে থাকা জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতার ৯৫ হাজার ৬শত টাকা চুরি করে বলে এ অফিসের এক অফিস সহকারী জানান।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারী মানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। চুরি হওয়া ৪ দপ্তরের মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভূমি কার্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন কার্যালয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা এ চোরকে ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামের এক চিহ্নিত চোর বলে নিশ্চিত হলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ করেন, প্রশাসনের ২ কর্মকর্তার অনীহার কারণে পুলিশ এ ঘটনায় নীরবতা পালন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিস সহকারী জানান, এ দিন একটি হাটের ইজারার ১৭ লাখ টাকা জমা হয়। ব্যাংক সময়ের পর জমা হওয়ায় এ টাকা ব্যাংকে রাখা সম্ভব হয়নি। চোর কোন মাধ্যম থেকে এ খবর পেয়ে চুরির এ ঘটনা ঘটায়। এ টাকা প্রথমে অফিসের আলমারীতে রেখে পরে অন্যত্র রাখা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, নিয়ম না থাকলেও উপজেলা পরিষদের আবাসিক ভবনে একজন জন ইউপি চেয়ারম্যান (গট্টি ইউপি হাবিবুর রহমান লাবলু) তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। তার অনুসারীরা দিনরাত এ বাসায় যাতায়াত করে। চোর এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তা হুঁমকিতে থাকে।

গট্রি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, স্থানীয় কোন্দলের কারণে আমি কিছুটা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগী। এ জন্য কিছুদিন এখানে অবস্থান করছি। তবে দ্রুতই সে আবাসিক ছেড়ে দিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় স্থানীয় কোন্দলে কয়েকটা মার্ডারের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার কিছুটা অবনতি হয়েছিলো। তাই তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা পরিষদের আবাসিক ভবনে কয়েকদিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সালথার আইন শৃঙ্খলার অবস্থা অনেকটা ভালো। তাই উক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে বাসভবন ছাড়ার ব্যাপারে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। চুরির ব্যাপারে ইউএনও মোবাশ্বের বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো অগ্রগতির খবর আমাদের জানাতে পারিনি।

সালথা থানার ওসি মোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, আমরা চুরির ভিডিও ফুটেজ ও মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে চোর ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তারা চোর সনাক্ত করতে পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি