রাজধানীতে শুরু হয়েছে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন

আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এ সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর জোট ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন আজ শুরু হয়েছে।

‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ’- প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হলো মুসলিম দেশগুলোর জোট ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন ‘ওআইসি কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স (সিএফএম)’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম দেশগুলোর প্রতি শান্তি, সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখার অাহ্বান জানিয়ে বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু লোকের জন্য শান্তি বিনষ্ট হতে পারে না। অামরা মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থেকে অামাদের ভবিষ্যৎকে অামরা নিজেরাই সুন্দর করে সাজাব। নিজেদের সমস্যা অামরা নিজেরাই সমাধান করব। রক্তপাত অারও খারাপ পরিস্থিতির জন্ম দেয়। কারও প্ররোচনায় অামরা নিজেরা হানাহানিতে জড়াব না।

এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুটি বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে আগত অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ ২৫ বছর পর ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন এরশাদ সরকারের সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ১৪তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না। মিয়ানমারের অমানবিক নিয়াতসের হাত থেকে রক্ষার জন্য শুধু মানবিক করণে অামরা রোহিঙ্গাদের অাশ্রয় দিয়েছি।

তিনি অারও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি। তাই এ সমস্যা মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে। তিনি ইসলামিক দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য অাহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, সময় এসেছে অামাদের যৌথ কর্মকৌশল গ্রহণের। এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব এগিয়ে যাবে। মুসলমানদের যে মেধা এবং সম্পদ রয়েছে তাতে পিছিয়ে পড়ার কোনো কারণ নেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস দমনে চার দফা পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্মেলনে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি’র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রী রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার ওআইসি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা নিপীড়িত, নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।