জিনের যৌন হয়রানির স্বীকার স্বঘোষিত মহিলা অলি!

জিনকে তাড়া করতে গিয়ে এক পল্লী চিকিৎসককে ধারালো হাসুলি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছেন স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক এক মহিলা মোছাঃ চায়না বেগম (৩০)। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। গুরুতর আহত পল্লী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয় ওই মহিলাকে। গত বুধবার কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া গ্রামে ঘটেছে এরকম একটি ঘটনা।

থানায় আটক থাকা অবস্থায় ওই মহিলা দাবি করেন, তিনি রাসুলের খেলাফত প্রাপ্ত মহিলা অলি। তিনি বাড়িতে হালকায়ে জিকির ও জিন সাধনা করেন। একটি জিন তিনি কব্জায় রেখেছেন। কিছুদিন থেকে ওই জিনটি তাকে (চায়না বেগমকে) যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটায়। এতে সে জিনের ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। ঘটনার রাতে জিকির করার সময় ওই জিন হাজির হয় এবং তাকে যৌন হয়রানির পায়তাড়া করে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসুলি দিয়ে জ্বিন ভেবে ভুলবশত ওই পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে আহত করে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, চর বলদিয়া গ্রামের আজাহার আলীর স্ত্রী মোছাঃ চায়না বেগম (৩০) বিয়ের এক বছরের মাথায় জৈনক পীরের নিকট মুরিদান গ্রহণ করেন। পীরের নিদের্শনায় বাড়িতে নিয়মিত হালকায়ে জিকির করেন। বিগত কয়েক বছর থেকে তিনি নিজেকে মহিলা অলি বলে দাবি করেন। জিকিরের সময় তার ওপর জিন হাজির হয় এমন কথাও এলাকাবাসীকে বলেন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে তার জিকির আসকারের সময় কথিত জিন হাজির হলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল বাধে। এই হট্টগোল শুনে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক মনজুরুল হক (২৭)। মঞ্জুরুলকে দেখে চায়না বেগম ধারালো হাসুলি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।

পরে এলাকাবাসী মঞ্জুরুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অতঃপর রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার (০৩ মে) সকালে এলাকাবাসী চায়না বেগমকে আটক করে ভূরুঙ্গামারী থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ চায়নাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক চায়নাকে মানসিক রোগী বলে সনাক্ত করেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই ওসমান গণী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চায়না বেগম মানসিক রোগী হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিস্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি