কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে ৫ বছরে ৪২ জন নিহত

বজ্রপাত থেকে রক্ষায় কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক গণ সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক।। প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে আসছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

কিশোরগঞ্জ জেলায় গত ৫ বছরে বজ্রপাতে ৪২ ব্যক্তি নিহত এবং অন্ততঃ ১৫০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের ঝড়-ঝঞ্জার সময় তাই এ এলাকার মানুষ বজ্রপাতের ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে শঙ্কিত থাকেন। উত্তরোত্তর বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর হাত থেকে রক্ষায় ব্যাপক গণ সচেতনতা গড়ে তুলতে সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। তাদের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা গুলোতে চলছে সতর্কতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং উঠান বৈঠক। গ্রামে গ্রামে লাগনো হচ্ছে, বজ্রপাত প্রতিরোধ সহায়ক তালগাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় এক দশক ধরে কিশোরগঞ্জে বজ্রপাত ও বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর একারণে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে বর্ষা মৌসুম যেনো মূর্তিমান আতঙ্ক হিসাবে দেখা দেয়। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রচার আছে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক স্থাপিত ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ গুলো রাতের অন্ধকারে চোরাচালানী সিন্ডিকেট কর্তৃক তুলে নেয়ার কারণে এ অঞ্চলে বজ্রপাতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুত্রমতে, ওই ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ মহা মূল্যবান এবং দেশের বাইরে বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন সম্ভব এমন প্রচারের কারণে আশির দশক থেকে গড়ে ওঠা একটি চোরাচালানী সিন্ডিকেট রাতের অন্ধকারে এক এক করে তুলে নিয়ে যায় এসব ‘ম্যাগনেটিক পিলার’। আবার সাধারণ অধিকাংশ মানুষের ধারণা ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ চুরির পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ার স্থাপনের কারণে এ অঞ্চলে বজ্রপাতের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার আক্তার জামিল যুগান্তরকে জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত পাঁচ বছরে জেলার ১৩টি উপজেলায় বজ্রপাতে ৪২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্য জেলার বাজিতপুর ৮জন, নিকলী ৭জন, মিঠামইন ৬জন, করিমগঞ্জ ৬জন, তাড়াইল ৩জন, অষ্টগ্রাম ৩জন, কুলিয়ারচর ২জন, সদর ২জন, ভৈরব ১জন, পাকুন্দিায় ১জন, ইটনা ১জন, হোসেনপুর ১জন ও কটিয়াদী উপজেলায় ১জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়।

এ সময় তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বজ্রপাত প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় এ জেলায় ইতিমধ্যে ১৬ হাজার ১৫০টি তালগাছের চারা লাগানো হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাত থেকে রক্ষায় গণ সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসাবে মাইকিং করে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্রাক, পপি ও সাদ বাংলাদেশ নামে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

 

এস কে রাসেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি