রাজধানীতে বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টির ভাবনায় শিথিল জনজীবন!

কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টি বছরের এই সময়টাতে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এ বছর মেঘ, ঝড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টিসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিলাবৃষ্টি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতির রাজধানীতে এবারের আবহাওয়া বেশ বেমানান। সকাল ৮টায় ঘরের বাইরে তাকিয়েই অন্ধকার দেখে অনেকে চমকে উঠেন।

প্রাত্যহিক কাজে বের হয়ে দেখেন রাস্তায় হাঁটুপানি। বাজারের পথে পড়ে আছে বিশাল আকৃতির গাছ। গতকাল রবিবার সারাদিনই রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রপাতে রাজধানীবাসী আঁতকে উঠেছে প্রতি মিনিটে।

রবিবার সকাল, দুপুর ও বিকালে তুমুল বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টিহয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জলমগ্ন ছিল অনেক রাস্তা ও এলাকা। রাজধানীর মিরপুর ১০, ১১, ১২ এবং ১ ও ২ নম্বর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, রামপুরা, বনশ্রী, মগবাজার, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বৃষ্টি ও জলজটের কারণে গাড়ির গতি ছিল কম।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি বর্ষণ হতে পারে। বুধবার ভারি বর্ষণ না হলেও বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। তিন দিন বজ্রপাতের শঙ্কাও রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ বলয় বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে পূবালি ও পশ্চিমা লঘুচাপের সক্রিয়তা বাড়ায় অতি বর্ষণ হচ্ছে।

জেষ্ঠ্য আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান,  তীব্র বজ্রমেঘের কারণে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ এবং বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সকালে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সকাল ৮টার দিকে আকাশ আঁধার করে রাজধানীতে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৩ কিলোমিটার।

গতকাল দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ময়মনসিংহে, ৭২ মিলিমিটার। এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৫৬ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৫৫, ভোলায় ৫০, টাঙ্গাইলে ৪৯, বরিশালে ৩৬, নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।