বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়। দিবসটি উদযাপন করতে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় অবস্থিত প্যাগোডায় (বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপাসনালয়) নানা আয়োজন করা হয়েছে। রোববার সকালে প্রার্থনার মাধ্যমে দিনটি উদযাপনের প্রথম অংশ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রার্থনার মাধ্যমে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম অংশের অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। এই পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, রাষ্ট্রপতির কার্যলয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, একুশে পদকপ্রাপ্ত উপসংঘরাজ সত্যপ্রিয় মহাথের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সকালের প্রার্থনায় অংশ নেয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, বুদ্ধ পূর্ণিমা তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তাদের বিশ্বাস, খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দের এ দিনে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন, ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এ দিনে তিনি বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেন এবং ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এ দিনে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। তারা আরও জানান, সিদ্ধার্থের বোধি লাভের মধ্য দিয়েই বৌদ্ধধর্ম প্রবর্তিত হয়। তার আবির্ভাব, বোধি লাভ ও মহাপরিনির্বাণ- তিন ঘটনাই বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে ঘটায় একে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ বলা হয়।

তারা আরও জানান, বৈশাখের এই পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা স্নান করে শুচিবস্ত্র ধারণ করেন। এরপর প্যাগোডায় এসে বুদ্ধের বন্দনা করা হয়েছে। প্যাগোডায় অর্চনার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তককে স্মরণ করা হয়েছে।

দিলিপ বড়ুয়া নামের একজন বলেন, ‘বৌদ্ধ দর্শনের মূল লক্ষ্য সত্যকে উপলদ্ধি করে দুঃখমুক্তি। বুদ্ধের শিক্ষা- মানুষ কর্মের অধীন, জগতে কর্মই সব। যার যেমন কর্ম, তিনি ফলও পাবেন তেমন। এ দর্শনের মূলমন্ত্র- ‘সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু’, অর্থাৎ ‘জগতের সকল প্রাণি সুখি হোক’।

কিরণ বালা বড়ুয়া নামের অপর একজন বলেন, ‘মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন মানুষ কর্মের অধীন, জগতে কর্মই সব। আজ এই পবিত্র দিনে বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা তাকে স্মরণ করেছি’।