জেট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট ঝড়ের কবলে

ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা জেট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট ঝড়ের কবলে পড়েছিল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আকাশে অতিরিক্ত সময় উড়তে থাকলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু এ ফ্লাইট দুটি নয়, রোববার সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে অাসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও দেরিতে অবতরণ করে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ইনকোয়ারি বিভাগে কর্মরত জয়নাল আবেদিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ-২৭৪ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টা ৫ মিনিটের পরিবর্তে ৯টা ৩৪ মিনিটে অবতরণ করে। এছাড়া জেট এয়ারওয়েজের মুম্বাই থেকে আসা অপর ফ্লাইট ৯ডব্লিউ-২৭৬ ১১টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ১২টা ১৮ মিনিটে অবতরণ করে।

জেট এয়ারওয়েজের কলকাতা থেকে আসা যাত্রী আশরাফুল ইসলাম রানা নামের এক যাত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার তথ্য জানিয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতা থেকে রওনা দেয়া জেট এয়ার ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও পারেনি। বিমানটি ঝড়ের কবলে পড়ে ব্যাপক ধাক্কা এবং দোলুনিতে ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়।’

তিনি আরও লিখেন, ‘দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ঝড়ের কারণে আকাশে অবস্থান নেয়ায় জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে বিমানটি। যাত্রীদের হাহাকার এবং উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে অবশেষে ঝড়ের ভেতরই ইমার্জেন্সি ঢাকাতে অবতরণ করতে হয়েছে। জেট এয়ারওয়েজর পাইলটের দক্ষতায় সকাল ১০টায় শত ঝাঁকুনি আর ঝড়ের ভেতরেও অবশেষে সর্তক অবতরণ করে। এতে বেঁচে গেল শতাধিক যাত্রী। তবে জ্বালানি সঙ্কটে না পড়লে ঝড় থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতো প্লেইনটি, জানিয়েছে জেট কর্তৃপক্ষ।’

বিমানবন্দর ফ্লাইট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা থেকে সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। এ সময় আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে অাসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দেরিতে অবতরণ করে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রানওয়েতে বিমান ওঠানামা করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুই ঘণ্টার জন্যে তা বন্ধ রাখা হয়। যে কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তনও হয়। একই কারণে যাত্রাতেও বিলম্ব ঘটছে বলেও জানানো হয়।