আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল, ধ্বংসলীলা দেখে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে সারা দেশের মতো দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়। এই দিনটির কথা আজও ভুলেনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও আনোয়ারার মানুষ।

স্বাধীনতা উত্তরকালে এতো বড় ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর ক্ষয়ক্ষতি বাংলাদেশের মানুষ দেখেনি। উপকূলবাসীকে এখনো সেই ঝড়-জলোচ্ছ্বাস দুঃস্বপ্নের মতো ‍তাড়িয়ে বেড়ায়। লাশের পর লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। পরদিন সেই ধ্বংসলীলা দেখে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক। সহায় সম্বল ও স্বজনহারা উপকূলের বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো পেয়েছিলেন নবজন্ম।

স্বাধীনতা উত্তরকালে এতো বড় ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর ক্ষয়ক্ষতি বাংলাদেশের মানুষ দেখেনি। উপকূলবাসীকে এখনো সেই ঝড়-জলোচ্ছ্বাস দুঃস্বপ্নের মতো ‍তাড়িয়ে বেড়ায়। স্মৃতিচারণ করতে গেলে এখনো রাতে ঘুমতো পারেন না অনেকে। এই গল্প করতে গেলে গায়ের সব লোম দাঁড়িয়ে যায়।

কক্সবাজারের বাসিন্দা মঈনুল হক চৌধুরী বলেন, তখন আমরা স্কুলে পড়তাম। চট্টগ্রামে মামার বাড়িতে ছিলাম সেই রাতে। পরের দিন যখন বাড়িতে যাই ঝড়ের তাণ্ডব তখন ছিল না। কিন্তু সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। মৃত গবাদি পশু যেখানে সেখানে পড়ে ছিল। গাছের উপরে লটকে ছিল বাড়ির চালা। এই ঝড় এতো প্রলয়ঙ্করী ছিল যে, বাতাসের তোড় গায়ের জামা পর্যন্ত খসিয়ে নিয়েছিল।

২৫ বছর আগের সেই মহাপ্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত তছনছ করে দিয়েছিল উপকূলীয় জনপদ। ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২২৫ কিলোমিটার গতিবেগের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় এবং ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে দেশের উপকূলীয় এলাকা পরিণত হয়েছিল বিরানভূমিতে। ভেসে গিয়েছিল ফসলের ক্ষেত, লাখ লাখ গবাদিপশু। ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে মারা যান প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। যদিও সরকারি হিসাব মতে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার। কক্সবাজারের আট উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী-আনোয়ারাসহ উপকূলের হাজার হাজার গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়েছিল। সম্পদহানি হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিলীন হয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার প্রায় আড়াইশ কি.মি. বেড়িবাঁধ।

 ভয়াল সে স্মৃতি আজও কাঁদায় পুরো উপকূলবাসীকে। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন। দুঃসহ সে স্মৃতি এখনও কাঁদায় স্বজনহারা মানুষগুলোকে। সেই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি বয়ে নিয়ে আবারও উপকূলীয় মানুষের কাছে দিনটি ফিরে এসেছে। ২৯ এপ্রিল স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের মতো দিবসটি উপলক্ষে এবারও জাতীয় প্রেস ক্লাবে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।