সিরাজদিখানে লালনসাঁই বটতলায় সাধুসঙ্গ

ফকির লালন সাঁইজীর জীবন কর্ম ও মানবপ্রেমের মর্মীয় বানীর পরিবেশন ছাড়াও বাংলার লালন ফোক সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গত ১৩ বছরের মতো এবারো গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫ টায় থেকে সাইজির আগমনী গানের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয় সাধুসঙ্গ।

উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের টেকেরহাটে পদ্মহেম ধামের উদ্যোগে লালন শাহ বটতলা সাধুসঙ্গ-১৪২৫, অনষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সাধু সঙ্গে লালন জীবনী, সাধনা বিষয়ক বয়ান ও লালনগীতি পরিবেশন করবেন কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লালন সাধক ও ভক্ত-অনুসারীরা।

এবছরও অংশ নিয়েছেন, ভারত ও ফ্রান্সের উচ্চ পর্যায়ের সাধক, সাধু গুরু ও খ্যাতনামা বাউল শিল্পিবৃন্দ। এরপর পর্যায়ক্রমে মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গের নামকরণ কার্যাবলি ও বিধিবিধান জ্ঞাপন, জ্ঞানরত্নকর ফকির লালন সাঁইজির জীবলীলা স্মরণ, গুরুকর্ম যন্ত্রছাড়া সমবেত কণ্ঠে গুরুদৈন্য শেষে চা-মুড়ি সেবা, হালকা নাশতা পর দৈন্যগানের পর রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয় আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় লালনগীতির মূল আসর। চলবে ভোর ৬টা পর্যন্ত ।

পদ্মহেম ধাম লালনসাঁই বটতলার প্রতিষ্ঠাতা কবির হোসেন বলেন, মানবতার বাহক সর্বপ্রাণ লালন সাইজী‘র আদর্শই আমাদের মূল শক্তি। সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন, লালন সাইজী‘র এই বানীর উপর ভিত্তি করেই আশ্রমটি পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামীতেও সাঁইজির কৃপায় এই সাধুসঙ্গ আব্যাহত থাকবে।

এ বছর সাধুসঙ্গে অংশ নিয়েছেন, দরবেশ নহির শাহ, সামছুল ফকির, মহরম শাহ, বুড়ী ফকিরানী, ফ্রান্সের দেবরা, রমিজ ফকির, টুনটুন বাউল, হৃদয় শাহ।

 

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি