প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ছাড়াই খুলে দেওয়া হচ্ছে ফুলবাড়ী সেতু!

অবশেষে উদ্বোধন ছাড়াই খুলে দেয়া হচ্ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর ওপর নির্মিত ‘ফুলবাড়ী সেতু’। জনসাধারণের জন্য আজ শনিবার (২৮ এপ্রিল) থেকে এ সেতু খুলে দেবার কথা রয়েছে। ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের নৌকায় করে নদী পারা-পারের বিড়ম্বনা দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা যায়, ফুলবাড়ী-লালমনিরহাট সংযোগ সড়কের কুলাঘাটের ৯৫০ মিটার সেতুটি নির্মাণে ২০১৪ সালে সিমপেনেক্স ও নাভানা কনস্ট্রাকশনের মধ্যে চুক্তি হয়। বেশ আগেই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্বোধন করবেন বলে এতদিন সেতুতে যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া নদীর ঘাট ডাকের বিষয়টিও এর জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে থাকায় শনিবার এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বিকেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা সমাবেশ আহ্বান করেছে।

অন্যদিকে সেতু খুলে দেয়া হলেও পূর্ব পাড়ে বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রটেকশন বাঁধের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে করে জনসাধারণের মনে কিছুটা হলেও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তারা বলছেন, বাঁধ নির্মাণ না হলে বন্যা ও উজানের পানির ঢলে সেতুর পূর্ব পাড়ের সংয়োগ সড়ক ভেঙে যেতে পারে। পাশাপাশি বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়তে পারে হাজারো পরিবার।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, নদীশাসন, এপ্রোচ সড়কসহ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা।

সেতুটি দিয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের যাতায়াতের পথ সুগম হবে। প্রসার ঘটবে এসব এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের। উন্নতির মুখ দেখবে বলে আশায় দিন গুনছে এসব এলাকার মানুষ।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেনে প্রধানমন্ত্রী সেতুটি উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে সুবিধাজনক সময়ে তিনি এটির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সেতুটি খুলে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী রংপুরে সফরে আসলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি