ধর্ষক ছেলেকে বাঁচাতে আসিফাকে খুন করলো বাবা!

কাশ্মীরের কাঠুয়ায় আট বছর বয়সী শিশু আসিফা বানু গণধর্ষণ ও হত্যার তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এ ঘটনায় প্রধান আসামি মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সানজি রাম জানিয়েছে, অপহরণের চারদিন পর শিশুটিকে ধর্ষণের কথা সে জানতে পারে।

তদন্ত দলকে সানজি রাম জানায়, সে যখন জানতে পারে, তার ছেলেও ধর্ষণ করেছে, তখন সে আসিফাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। ছেলেকে বাঁচাতেই শিশুটিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে।

তদন্তকারীরা বলছেন, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। ওই দিনই সানজির কিশোর ভাগ্নে তাকে ধর্ষণ করে। ১৪ জানুয়ারি তাকে হত্যা করা হলে তিন দিন পর জঙ্গলের ভেতর মরদেহটি পাওয়া যায়।

রাম, তার ভাগ্নে ও সন্তানসহ পাঁচ জনকে আসামি করে হত্যা ও ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো ভারতজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।

এর পর ১২ বছর কিংবা তার কম বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড শাস্তি রেখে গত শনিবার দেশটির মন্ত্রিসভায় নির্বাহী আদেশ সই হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলেন, মুসলিম যাযাবর বাখরাওল সম্প্রদায়ের ওই শিশুটিকে অপহরণের পর দেবিস্থান নামের একটি ছোট্ট মন্দিরে রাখা হয়। রাম ওই মন্দিরটির তত্ত্বাবধায়ক ছিল।

হিন্দু প্রধান এলাকা থেকে যাযাবর গুজ্জার ও বাখরাওল সম্প্রদায়কে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়াতেই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতের পুলিশ।

তদন্তকারীদের কাছে সানজি রাম দাবি করে, কেবল ১৩ জানুয়ারি মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেদিন তার ভাগ্নে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে বিষয়টা সে জানতে পারে।

এর পর সে যখন জানতে পারে তার ছেলেও ধর্ষণে জড়িত তখন সে সিদ্ধান্ত নেয়, আসল লক্ষ্য হাসিল করতে হলে শিশুটিকে এখনই হত্যা করতে হবে। এতে যাযাবররাও ভয়ে এখান থেকে চলে যাবে।

তবে তদন্তকারীদের ভাষ্য নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন সানজি রামের আইনজীবী অঙ্কুর শর্মা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিজের সাফাই গেয়ে বক্তব্য দেয়ার উপযুক্ত সময় এখন নয়।

আইনজীবী অঙ্কুর বলেন, এ নিয়ে এখন কথা বললে নিজেদের কৌশলগুলো ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

সানজি রাম বলেছেন, শিশুটির মরদেহ কাছের একটি খালে নিয়ে ফেলে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। পরে আবার মন্দিরের ভেতরে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরের দিন সানজি রাম তার ভাগ্নে ও ছেলেকে বলেছে,তার বন্ধু গাড়ি নিয়ে আসতে অস্বীকার করেছে। কাজেই মরদেহটি নিয়ে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসতে হবে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি মাদক ক্রয়ের মাধ্যমে শিশুটিকে অপহরণের কার্যক্রম প্রথম শুরু হয়। অপহরণের পর তাকে মাদক খাইয়ে ১৫ কেজি ওজনের একটি জাজিম ও কম্বলে চাপা দিয়ে রাখা হয়।

মামলায় সানজি রামের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে তিলক রাজ ও আনন্দ দত্ত নামের দুই পুলিশ সদস্যের নামও রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে সানজি রামের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে প্রমাণ ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।