আবারও শিক্ষকদের মাঠে নামার ঘোষণা 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়ে সরকার সমর্থিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি পর্যায়ের স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসা রয়েছে, যেখানে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। অথচ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরমভাবে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবে শিক্ষকদের ১০ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব বৈষম্য নিরসনে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সুপারিশ মোতাবেক সমযোগ্যতা, সমঅভিজ্ঞতা ও সমদায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এক ও অভিন্ন বেতন স্কেল নির্ধারণ ও ভাতাদি প্রদান করে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এই দাবিতে গত ১৪ মার্চ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০ সংগঠনের সমন্বয়ে ‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়। তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে টানা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। প্রায় দেড় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেন।

আরও বলা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এ আন্দোলন পরে স্থগিত করা হয়। সে সময় দাবি পূরণে সরকারিভাবে আশ্বম্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে আগামী বাজেটে এ সংক্রান্ত বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, শিক্ষানীতির আলোকে আমরা ১১ দফা বাস্তবায়নে আন্দোলন করে করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সকল মহলেই আমাদের যৌক্তিক দাবি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অথচ আমাদের দাবি পূরণে এখনও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে পরিচালিত হলেও সরকারি-বেসরকরি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা এ বৈষম্য মেনে নেব না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে আগামী ১০ মে ঢাকাসহ সকল জেলায় বেসরকরি শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ২৬ জুন দেশের সকল জেলায় সমাবেশ ও দাবি আদায়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। বাজেট ঘোষণার পর পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান, অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনুরূপ প্রদান, বেসরকরি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদান ও অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালুকরণ, নন-এমপিও শিক্ষ প্রতিষ্ঠান এবং অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী শিক্ষকসহ বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত প্রদান ইত্যাদি।

শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হকের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীর ১০ সংগঠনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।