আগামী বাজেটে প্রতিটি জেলায় ত্রাণ গুদাম ও তথ্য কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উন্নয়ন খাতে ৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা বেশি।

চলতি বাজেটে ২ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা এ খাতে বরাদ্দ আছে। মূলত বন্যাপ্রবণ ও নদী ভাঙন অঞ্চলে আশ্রয় কেন্দ্র এবং ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র নির্মাণকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে এ বছর। যে কারণে বাড়তি এ অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

আগামী বাজেটে প্রতিটি জেলায় ত্রাণ গুদাম ও তথ্য কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

এ প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, উন্নয়ন খাতকে সরকার সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। কারণ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের পেছনে উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

দুর্যোগের সময় মানুষ যাতে আশ্রয় নিতে পারে এ জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ খাতে বরাদ্দও থাকছে।

সূত্র মতে, আসন্ন বাজেটে উন্নয়ন খাতে ৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সম্প্রতি আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া।

ডিও লেটারে তিনি বলেন, মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় সরকার ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের সিলিং নির্ধারণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে। কিন্তু এ বরাদ্দ অপ্রতুল। সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়সীমা জিওবি (সরকারি) সরকারের নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে আরও ২ হাজার কোটি টাকা বেশির জন্য ডিও লেটারে সুপারিশ করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এত বড় আকারে বরাদ্দ বাড়ানো কি সম্ভব?

সূত্র মতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আধা সরকারিপত্রে মন্ত্রী বলেন, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে- যা বাস্তবায়ন শুরু হবে আগামী অর্থবছর থেকে। এর মধ্যে রয়েছে দ্য ডিজাস্টার রিকস ম্যানেজমেন্ট এনহেন্সমেন্ট প্রকল্প।

এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে মোট ৬২০ কোটি টাকা। এছাড়া রয়েছে জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১২৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি বন্যাপ্রবণ ও নদী ভাঙন এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।

ডিও লেটারে বলা হয়, উল্লিখিত এ তিনটিসহ মোট ৯টি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি খাতের ২ হাজার ২ কোটি টাকা এবং সহায়তা ৩৭৪ কোটি টাকা।

তবে এ ৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৬টি বাস্তবায়ন হচ্ছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। এছাড়া মুজিব কিল্লা সংস্কার ও উন্নয়ন, গ্রামীণ ছোট রাস্তা (১৫ মি. দীর্ঘ পর্যন্ত), সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ, গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসইয়ের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ডকরণ (এইচবিবি) এবং ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম প্রকল্পসহ ৬টি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এ জন্য আগামী অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ১৪২ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

বরাদ্দ বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ডিও লেটারে আরও বলা হয়, মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামোতে এ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের সিলিং অপ্রতুল।