রিয়ালকে ভাবাচ্ছে বায়ার্নের রক্ষণভাগ

দুই দশক আগে  চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্টাসকে হারিয়ে  ৩২ বছর পরে তিনিই ইউরোপ সেরা করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদকে। জার্মান ম্যানেজার য়ুপ হাইন‌্‌কেসকে ভোলেননি রিয়াল সমর্থকরা।  জুভেন্তাসের সেই দলে ছিলেন বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার জিনেদিন জিদান।

ছবিটা এ বার আলাদা। রিয়াল মাদ্রিদের সেই বিখ্যাত জার্মান ফুটবল ম্যানেজার বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখের ম্যানেজার। হাইন‌্‌কেস বলছেন, ‘‘এই ম্যাচে এ বার কেউ এগিয়ে নেই। তবে মানসিক দিক থেকে আমার ছেলেরা অনেক চাঙ্গা। রিয়ালকে কোনও দল যদি হারাতে পারে সেটা হল বায়ার্ন মিউনিখ। জিদানের কোচিংয়ে রিয়াল কিন্তু দারুণ খেলছে।’’

জিদান যদিও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রিদ থেকে মিউনিখে পা দিয়ে বিমানবন্দরে জমায়েত সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়েছেন সযত্নে। কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

ফুটবলার জীবনে চেলসি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে এসে ছন্দ খুঁজে পাননি নেদারল্যান্ডসের ফুটবল তারকা আরয়েন রবেন। যা তিনি পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের জার্সি গায়ে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী টোনি ক্রুস বুধবার রাতে বড় ভরসা রিয়ালের মাঝমাঠে।

ঠিক তেমনই রিয়াল মাদ্রিদে ছাপ ফেলতে না পারা কলম্বিয়ার হামেস রদরিগেজ মুখিয়ে বুধবার বায়ার্নের জার্সি গায়ে রোনাল্ডোদের বিরুদ্ধে গোল করতে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ পর্যন্ত দু’দলের মুখোমুখি সাক্ষাতের ফল ১১-১১। দু’বার ম্যাচ শেষ হয়েছে অমীমাংসিত ভাবে। তবে শেষ পাঁচ সাক্ষাতে জিতেছে মাদ্রিদের দলটিই।

যদিও বায়ার্ন সমর্থকরা এ বার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের বিপক্ষে পাঁচটি কারণে এগিয়ে রাখছেন তাঁদের দলকে। যার মধ্যে প্রথমেই আসছে রবার্ট লেয়নডস্কির নাম। চলতি মরসুমে বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৯ গোল হয়ে গিয়েছে তাঁর। দুই, জবাব দিতে মুখিয়ে থাকা হামেস রদ্রিগেজ। তিন, ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলার সুবিধা। এ বারের বুন্দেশলিগায় ঘরের মাঠে একটা ম্যাচেও হারেননি রবেনরা। চার, জেরোম বোয়াতেং-ম্যাটস্ হুমেলসের নেতৃত্বে পোক্ত রক্ষণ। যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ পর্যন্ত গোল খেয়েছে মোটে পাঁচটি। ঘরের মাঠে শেষ চার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে কোনও গোল হয়নি বায়ার্নের বিরুদ্ধে। পাঁচ, অবশ্যই বায়ার্নের বিশ্বখ্যাত কোচ হাইনকেস। যিনি তাঁর রণনীতি দিয়ে পিছনে ফেলতে পারেন রোনাল্ডোদের।

জয়ের জন্য বিপক্ষ সমর্থকদের এই সব ইতিবাচক কারণ নিয়ে আলোচনার মাঝেই এ দিন সকালে মাদ্রিদ ছাড়ল রিয়াল। রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরেই জিদান বলে গেলেন, ‘‘খারাপ সময়ের যাচ্ছিল করিম বেঞ্জেমার। ধীরে ধীরে ফর্মে ফিরছে। তবে ওকে আরও গোল করতে হবে।’’ জিদানের যে মন্তব্যের পরে স্প্যানিশ প্রচারমাধ্যমের আগাম ভবিষ্যদ্বাণী, প্রথম দলে হয়তো এ বারেও নেই গ্যারেথ বেল।

বায়ার্নের ঘরের মাঠে গিয়ে ম্যাচ জেতার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা তাকিয়ে রয়েছেন রোনাল্ডোর দিকে। যিনি এ বারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ পর্যন্ত গোল করেছেন ১৫টি। রিয়াল মাদ্রিদের শেষ ২৫ ম্যাচেও তাঁর গোল ২৭। আর বায়ার্নের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোর গোল ন’টি। যার কথা শুনেই বায়ার্ন ম্যানেজার বলে দেন, ‘‘ক্রিশ্চিয়ানো ওদের আসল লোক। দুর্দান্ত ফুটবলার। একাই ম্যাচটা নিয়ে চলে যেতে পারে। ওকে আটকাতেই হবে। তবে রিয়ালও ভাববে আমাদের লেয়নডস্কিকে নিয়ে।’’

ম্যানেজারের মতো বায়ার্ন সমর্থকরা যে ফুটবলারের উপর আস্থা রেখে ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারানোর স্বপ্নে বুঁদ, সেই লেয়নডস্কি তাঁদের সেই আশা আরও উস্কে দিয়ে বলছেন, ‘‘ওদের আক্রমণে সঙ্গে রক্ষণ পাল্লা দিয়ে খেলতে পারছে না। সেটা আমাদের নজরে রয়েছে। ম্যাচটা জেতার জন্য সব প্রস্তুতিই নিয়েছি আমরা। রিয়ালের ভুলগুলোকে কাজে লাগাতেই হবে।’’