জার্মানিতে ১ হাজার ১৬৮ ইউরো কল্যাণভাতা পান লাদেনের দেহরক্ষী

ওসামা বিন লাদেনের এক সময়ের দেহরক্ষী একজন তিউনিসিয়ার ব্যক্তি ১৯৯৭ সাল থেকে জার্মানিতে বাস করছেন। এমনকি ওই ব্যক্তি প্রতি মাসে ১ হাজার ১৬৮ ইউরো কল্যাণভাতাও পান।

জার্মানির চরম ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) সামি নামের ওই ব্যক্তির ব্যাপারে জানতে চাওয়ার পর দেশটির একটি আঞ্চলিক সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে গোপনীয়তার কারণে ওই ব্যক্তির পুরো নাম প্রকাশ করেনি জার্মানির মিডিয়া। সামি জিহাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তাকে তিউনিসিয়ায়ও ফেরত পাঠানো হয়নি এই ভয়ে যে সামি সেখানে গেলে নির্যাতিত হতে পারেন।

সামি ২০০০ সালে আফগানিস্তানে বিন লাদেনের দেহরক্ষী ছিলেন। এ ঘটনায় ২০০৫ সালে জার্মানির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত সামিকে কয়েক মাসের জেল দেয়। সামি এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে জেল দেন আদালত।

পরে ২০০৬ সালে আল-কায়েদা সম্পৃক্ততার কারণে সামি আবার তদন্ত কর্মকর্তাদের রাডারে আসেন। তবে তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

জার্মান স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জার্মানি বোচুম শহরে বাস করেন সামি এ। ১৯৯৯ সালে জার্মানি সরকারের কাছ সাময়িক রেসিডেন্স পারমিট নেয়ার পর সামি বেশ কয়েকটি প্রযুক্তির কোর্স করেন। পরে তিনি ২০০৫ সালে বোচুম শহরে স্থানারিত হন। এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০০৭ সালে তার রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সামিকে প্রতিদিন একটি পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট করতে হয়।

জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজন জঙ্গিরা উত্তর আফ্রিকায় নির্যাতনের শিকার হন। তাই তিউনিসিয়া ও তার আরব প্রতিবেশী দেশগুলোতে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে নিরাপদ মনে করে না জার্মানি।