হোম অফিসে প্রকাশিত চিঠির ১৩টি ‘ভুল’ চিহ্নিত করলেন ফখরুল

সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের মাধ্যমে তারেক রহমানের পাসপোর্ট বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেয়ার একটি নথি দেখিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘তার হিসাবে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের ‘হোম অফিস’-এর যে চিঠি প্রকাশ করেছেন সেটিকে ভুলে ভরা, রহস্যজনক ও ফটোকপি বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব ওই চিঠির ১৩টি ‘ভুল’ চিহ্নিত করে সাংবাদিকদের দেখিয়েছেন।

২৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার রাজধানীর  নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব ‘ভুল’ তুলে ধরেন।

চিঠিতে বিএনপি যে ‘ভুল’গুলো ধরেছে তার মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশ হাইকমিশন’ না লিখে চিঠিটিতে লেখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ এম্বাসি’, তারিখের ফরম্যাট লেখা ঠিক নেই, চিঠি প্রেরকের সই আছে কিন্তু নাম লেখা নেই। এছাড়াও ফোন নম্বর, দাড়ি-কমার ব্যবহার, ক্যাপিটাল লেটার, স্মল লেটার ব্যবহারের বেশ কিছু ‘ভুল’ প্রতিমিন্ত্রীর দেখানো চিঠিটিতে আছে বলে বিএনপি দাবি করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের কষ্টার্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে লন্ডন সফরকারী বিশাল বহরের একমাত্র অর্জন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংগ্রহ করা জনাব তারেক রহমানের ২০০৮ সালে ইস্যু করা পাসপোর্টের তিনটি পাতা এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগের অসংখ্য ভুলে ভরা, এক লাইনের, রহস্যজনক একটি চিঠির ফটোকপি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কী কী কারণে একজন নাগরিক জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব হারাতে পারেন এটাও যিনি জানেন না, তেমন একজন ব্যক্তির শুধু এ ধরনের অনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী পদে থাকা সম্ভব এবং তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।’

‘দেশবাসী জানেন যে, বর্তমান সরকারের তথাকথিত আন্দোলনের ফসল অবৈধ ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের নৃশংস রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পঙ্গু অবস্থায় সুচিকিৎসার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে জনাব তারেক রহমান ২০০৮ সালে লন্ডনে যান এবং পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এখনো সেখানে তার চিকিৎসা চলছে,’ বলেন ফখরুল।

বিএনপির এই প্রবীণ নতা আরও বলেন, ‘সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে মন্ত্রী, নেতা-পাতি নেতারা প্রতিনিয়ত জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করলেও দেশের জনগণ যাতে জনাব তারেক রহমানের জবাব শুনতে না পারে সেজন্য দেশের সকল প্রচারমাধ্যমে জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ করে বাক স্বাধীনতার মতো মৌলিক মানবাধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করে বিশ্বে এক নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় তারেক রহমান বিশ্বের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সরকার বিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতোই সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং সঙ্গত কারণেই তা পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তাঁর কোনো কাজে লাগছে না। যখনই তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হবেন, তখনই তিনি দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানাতে এবং তা অর্জন করতে পারবেন।’

মির্জা ফখরুলের দাবি, ‘পাসপোর্ট জমা রাখার জন্য ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তার পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার দ্বারাও কোন আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। এ ধরনের উদ্ভট ধারণাকে তত্ত্ব কিংবা তথ্য হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন কিংবা ফেসবুকে প্রচার রাজনৈতিক মূর্খতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে জানাতে চাই যে, তারেক রহমান জন্ম সূত্রে বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। তিনি তাঁর এই প্রিয় দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।’

সম্প্রতি লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, ‘তারেক কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন? গ্রিন পাসপোর্ট হস্তান্তর করে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন।’ এরপরই তারেক রহমানকে নিয়ে এই পাসপোর্ট বিতর্ক শুরু হয়।