দু’বোনকে ৫দিন আটকে রেখে দু’হাত ভেঙ্গে দিলো চারভাই!

ঝিনাইদহ সদরের ডাকবাংলার বাদপুকুরিয়া গ্রামে আপন দু’বোনকে ৫দিন ঘওে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে দু’হাত ভেঙ্গে দিয়ে গুরুতর জখম করেছে চারভাই, মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে! নিজেদের ফারায়জের জমি বুঝে নিতে গিয়ে দু’বোনকে ৫দিন আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে দুবোনের দু হাত ভেঙ্গে দিয়েছে নিজের আপন দু’ভাই ভাই।

জানা গেছে, ডাকবাংলার বাদপুকুরিয়া গ্রামের মৃত. মোবারক মন্ডলের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে, মেয়ে হালিমার স্বামীর বাড়ি ঝিনাইদহ সদরের গান্না ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামে আর লতার স্বামীর বাড়ি পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ফরিদপুর গ্রামে। হালিমা ও লতা দুই বোন গত ৫দিন পুর্বে ১৭ই এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে বাদপুকুরিয়া গ্রামে নিজেদের পিতা মৃত. মোবারক মন্ডলের পৈত্রিক বাড়িতে এসে তাদের ফারায়াজের জমির হিসাব বুঝে নিতে আসে। সেসময় রাত ১১টার দিকে আপন চার ভাই জাহাঙ্গির, আলমগীর, রবিউল ও শামিম, দু’চাচা আতর আলী ও আলী হোসেনের হুকুমে দু’বোনের সাথে জমি দিবেনা মর্মে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হালিমা বেগম (৪২) ও তার বোন লতা বেগম (৩৫) কে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে দু’বোনের দু’হাত ভেঙ্গে ৫দিন ঘরে আটক করে রাখে।

গ্রামবাসী ও প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, জমা জমির অংশিদারীত্ত্বকে কেন্দ্র করে চাচা আতর আলী ও আলী হোসেনের হুকুমে চার ভাই মিলে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে দুই বোনকে বেধড়ক মারপিট করে ঘরে আটকে রাখে। পাড়া প্রতিবেসিরা ছুটে এসেও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি। গুরুতর অসুস্থ্য ও অসহায় দুই বোনকে পাঁচদিনের ভিতরে বাড়ির কেউ চিকিৎসাও নিতে দেয়নি। খবর পেয়ে হালিমা বেগমের স্বামী সোনা খন্দকার ছুটে এসে একই গ্রামের ফুপাতো কুটুম হেলাল ও ফারুকের সাথে নিয়ে পাড়া প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় দুইবোনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তিকরে।

কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন, হালিমা বেগম ও তার বোন লতা বেগমের চিকিৎসা চলমান আছে। তাদের দু’জনের দু’হাত ভেঙ্গে গেছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন আছে।

এ ঘটনায় হালিমা বেগমের স্বামী সোনা খন্দকার সাংবাদিকদের ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা হয়েছে এবং আমি এঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ জানান, এঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা নিব।

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি