‘এখনও বেঁচে আছে, শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি’

সোমবার আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষিত এক নবজাতককে দাফন করতে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে নিয়ে এলেন শরিফুল নামে এক ব্যক্তি। যথারীতি ওই নবজাতককে গোসল করাতে পাঠালেন কবরস্থানের মোহরার হাফিজুল ইসলাম। এসময় তিনি বাহক শরিফুলের কাছ থেকে অভিভাবকের নাম ঠিকানা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

বাঁশ ৫০ টাকা, চাটাই ৩২ টাকা, কবর খোঁড়া ৫ টাকা ও সরকারি ফি ২০০ টাকা। মোট ২৮৭টাকা। ভাংতি না থাকায় আজিমপুর কবরস্থানের মোহরারকে নগদ ২৯০ টাকা পরিশোধ করে মৃত নবজাতককে দাফন করতে অপেক্ষা করছিলেন ধামরাইয়ের বাসিন্দা পিতা মিনহাজ ও তার বন্ধু শরিফুল।

গোসলখানায় জেসমিন আক্তার ঝর্ণা নামে এক নারী নবজাতকের গায়ে পানি ঢালতেই নবজাতকটি মৃদু নড়েচড়ে ওঠে। চোখে ভুল দেখছেন ভেবে আবার পানি ঢালতেই দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করছে। এবার তিনি অফিসে দৌড়ে গিয়ে খবর দিলে মোহরারসহ উপস্থিত সকলে ছুটে যান। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন নবজাতক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে।

খবর পেয়ে নবজাতকের পিতা সেখানে ছুটে যান। নবজাতককে বাঁচাতে প্রথমে আজিমপুর কবরস্থানের অদূরে আজিমপুর ম্যাটারনিটিতে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি না করে অাগারগাঁওয়ের ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে দ্রুত নবজাতকটিকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত ঘোষিত নবজাতক মেয়েকে বাঁচাতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন তার বাবা।

প্রত্যক্ষদর্শী ইকবাল নামের এক ব্যক্তি জানান, নবজাতক শিশুটিকে আজিমপুর ম্যাটারনিটি থেকে শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছেন।

এসময় তিনি নবজাতক শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শিশুটির বাবা শুধু বলেন, এখনও বেঁচে আছে। শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষিত নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় সরেজমিন অাজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে মোহরারের কার্য়ালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পুলিশ এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তা বার বার নবজাতকের পিতার মোবাইল নম্বর আছে কিনা জানতে চাইছেন। জবাবে মোহরার বলছিলেন, মোবাইল নম্বর নেয়ার সময়টুকুও পাইনি। রেজিস্ট্রারে নাম-ঠিকানা লেখা শেষ হওয়ার আগেই মৃত নবজাতক নড়েচড়ে উঠে সবাই দৌড়ে চলে যায়।

আজিমপুর কবরস্থানের নারী ড্রেসার জেসমিন আক্তার ঝর্ণা জানান, মোহরারের মাধ্যমে একটি বক্সে করে নবজাতকের লাশটি কবরস্থানের ভেতরে গোসলখানায় পাঠানো হয়। তিনি নবজাতক শিশুটির গায়ে এক মগ পানি ঢেলে শরীরে সাবান লাগাতে না লাগাতেই দেখেন শিশুটি নড়াচড়া করছে। প্রথমে চোখের ভুল ভেবে আবার সাবান ঘষতেই নবজাতকটি হাত-পা নাড়ায়। এসময় তিনি সহকর্মীদের ডেকে বিষয়টি জানান।

পানি ঢালার কারণে শিশুটির ঠান্ডা লেগে শরীর আরও খারাপ হতে পারে এই ভেবে তোয়ালায় পেঁচিয়ে দ্রুত কবরস্থানের দক্ষিণ গেটে নিয়ে আসেন বলে জানান তিনি।