পা হারানো রোজিনার অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীর বনানীতে বাসের চাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তারের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোববার জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসকরা। ওই হাসপাতালের পরিচালক গণি মোল্লা দুপুরে বলেন, “আজ আমরা দ্বিতীয় অপারেশন শেষ করেছি। ওর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। এ অবস্থায় আসলে কিছুই বলা যাচ্ছে না। রিকভারি রুমে আছে।”

রোজিনার চিকিৎসায় ওই হাসপাতালে যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণি মোল্লা। ময়মনসিংহের মেয়ে রোজিনা গত ১০ বছর ধরে ঢাকায় সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাসায় কাজ করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে বনানীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ইশতিয়াক রেজা রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, প্রথমবার অস্ত্রোপচরে রোজিনার ডান পা উরু থেকে কেটে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পচন ধরায় রোববার আবারও অস্ত্রোপচর করে বাকি অংশটুকু ফেলে দিতে হয়েছে। “অবস্থা বেশ খারাপের দিকে। শরীর থেকে জ্বর নামছে না। এটাকে বলা হয় সেপ্টিসিমিয়া; এটা খুবই ডেঞ্জারাস।”

২১ বছর বয়সী রোজিনা জানিয়েছিলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি পড়ে যাওয়ার পর বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাস তার উপর দিয়ে চলে যায়। সে সময় বাসটি থামানো হলে তার এই পরিণতি হত না।

সে সময় আশপাশে পুলিশসহ অনেকে ছিল জানিয়ে রোজিনা বলেন, “দুইবার আমার উপর দিয়ে চাকা চলে গেছে। আমি শুধু বলছিলাম, আমাকে একটু হসপিটালে নিয়ে যান। এরপর আর কিছু জানি না। অনেক মানুষকে বলছি আমাকে একটু হসপিটালে নিয়ে যেতে। অনেক মানুষকে বলছি। সার্জেন্টও ছিল। কিন্তু ধরে নাই।”

পরে কয়েকজন মিলে রোজিনাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১টার দিকে অস্ত্রোপচার করে তার পা কেটে ফেলা হয়।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত এই গৃহকর্মী শনিবার বলেন, “আমি এখন কী করব? আমি তো আগের জায়গায় ফিরে আসতে পারব না। আমার যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। আমি তো আর আমার পাটা ফিরে পাব না।”