‘নির্বাচনে বোমা সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেয়া হবে না’

শনিবার (২১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সবুজবাগ থানার বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হুশিয়ারী দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, এ বছর নির্বাচন ঘিরে কোনো অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ২০১৩-১৪ সালের মতো বোমা সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেয়া হবে না।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশের মধ্যে আগে থানা পুলিশকে ভালো হতে হবে। মিথ্যা মামলা বা মাদক দিয়ে কাউকে অপরাধী সাজানোর প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজধানীতে বসবাসকারী নাগরিকদের তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য ইতিমধ্যে ডাটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রত্যেককে ইউনিক নম্বর দিয়ে এ ডাটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। কেউ বাসা পরিবর্তন করলে তাকে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। কেউ অপরাধ করলে পার পাবেন না। ঢাকার বাড়ির মালিকরা সচেতন হওয়ায় জঙ্গি আস্তানাগুলো এখন ঢাকার বাইরে চিহ্নিত হয়। ঢাকায় অপরাধ সংঘটিত হলে এখন ন্যূনতম সময়ের মধ্যে ডিটেক্ট করতে সক্ষম হই।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, পুলিশের তৎপরতায় রাজধানীতে বর্তমানে ছিনতাই নেই। অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা কিংবা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পুলিশের কাছে আমাদের রাজনৈতিক কোনো চাহিদা নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই একমাত্র চাহিদা। আমার এলাকায় বিরোধী দলকে হয়রানি করা হোক, পুলিশকে এমন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। পুলিশের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, হয়রানি করা নয়।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পুলিশের কাজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, অপরাধী প্রশ্রয় দেয় বা জানমালের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আগে তাকে গ্রেফতার করবেন। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো অপরাধী গ্রেফতারের পর আমাদের পরিচয় দিক- এমনটি আমরা শুনতে চাই না।

উল্লেখ্য, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ থানার পাশে ৫০ শতক নিজস্ব জমিতে ৮ তলা থানা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। সেখানে সব ধরনের আধুনিক সুবিধা থাকবে।