আইপিএলে ডি এল ম্যাথডের পরিবর্তে ভিজেডি পদ্ধতির ব্যাবহার চান কার্তিক

শনিবার ইডেনে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব যখন ব্যাট করতে নামে, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল ১৯২ রান। অর্থাৎ তখন ক্রিস গেলদের প্রয়োজন গড়ে ৯.৬ রান।

কিন্তু বৃষ্টির জন্য এক ঘণ্টা ৩৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পরে যেন অনেক কিছু পাল্টে গেল। দেখা গেল পঞ্জাবকে তুলতে হবে ২৮ বলে ২৯ রান। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় গড় নেমে এসেছে প্রায় ছয়ে। সৌজন্যে ডাকওয়ার্থ-লুইস(ডিএল)পদ্ধতি।

সেই ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ থেকে দুই ব্রিটিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ ও টনি লুইসের তৈরি পদ্ধতিতেই সারা ক্রিকেট দুনিয়ায় বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের লক্ষ্য নির্ধারিত হচ্ছে। আইপিএলেও একই নিয়ম।

অতীতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বহু অধিনায়ক, ক্রিকেটার। শনিবার ইডেনে হারের পরেও সেই ডিএল নিয়েই প্রশ্ন উঠে এল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের গলাতেও। ডিএল প্রসঙ্গ উঠতেই দীনেশ বলেন, ‘‘বৃষ্টির পরে যখন খেলা শুরু হল, তখন হঠাৎ দেখি ওদের আস্কিং রেট ছয়েরও কম হয়ে গিয়েছে! আমি ব্যাপারটা বুঝলাম না। কোন হিসেবে, কোন যুক্তিতে এটা হতে পারে, আমি জানি না।’’

বিদেশ থেকে আমদানি করা এই নিয়ম ব্যবহার না করে তিনি ভারতে তৈরি নিয়ম জয়দেবন পদ্ধতি (ভিজেডি) ব্যবহারেরও পক্ষপাতী। বলেন, ‘‘আমাদের ভারতে তৈরি একটা পদ্ধতি রয়েছে, ভিজেডি’। সেই পদ্ধতি তো আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে (বিজয় হাজারে ট্রফি ও মুস্তাক আলি ট্রফি) ব্যবহার করা হচ্ছে। তা হলে আইপিএলেই বা হবে না কেন?’’

কিন্তু কেকেআর দু’শো রান তুললেও কি ম্যাচটা জিততে পারত? নাইট বোলারদের পারফরম্যান্সও যে ভাল হয়নি, তা স্বীকার করে নিয়েই কার্তিক বলেন, ‘‘আমাদের দু’শো রান হলেও তা নিয়ে জিততে পারতাম কি না, জানি না। কারণ, আজ আমাদের বোলিং ভাল হয়নি। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিরুদ্ধেও দু’শো তুলেছি। কিন্তু সঙ্গে বোলিংটাও তো ভাল হওয়া দরকার।’’

গত কয়েকটি ম্যাচে স্পিনাররা নাইটদের বোলিং শুরু করলেও শনিবার কিন্তু শিবম মাভি ও আন্দ্রে রাসেলের হাতে বল তুলে দেওয়া হয়। গেলকে শুরুতেই থামাতে স্পিনারদের কেন বল দেওয়া হল না, সেই প্রশ্ন উঠছে। কার্তিকের ব্যাখ্যা, ‘‘গেলকে আউট করার কোনও নির্দিষ্ট পদ্ধতি এখনও কেউ খুঁজে পেয়েছে বলে মনে হয় না। ও সত্যিই ভাল ব্যাট করছে। এটা মেনে নিতেই হবে। তবে কৃতিত্ব শুধু গেলকে দেবেন না। রাহুলও কিন্তু যথেষ্ট ভাল ব্যাটিং করেছে।’’

যাঁকে নিয়ে এত আলোচনা, সেই ক্রিস গেলের মুখে রাহুলের প্রশংসা। ম্যাচের পরে কমলা টুপি নিয়ে বলেন, ‘‘এটা আর আমার কাছে নতুন কী? এটা বরং রাহুলের প্রাপ্য।’’