বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের শাহাদতবার্ষিকী আজ

ফরিদপুরের কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের শাহাদতবার্ষিকী আজ শুক্রবার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই দিনে পাকিস্থানী শত্রুবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে বীরত্বের সাথে লড়ে তিনি শাহাদতবরণ করেছিলেন।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। দেশের সাত ‘বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে তিনি একজন। রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের একটি টিলায় চির নিদ্রায় শায়িত আছেন মুক্তিযুদ্ধের ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ মুন্সী আবদুর রউফ। শাহাদতবার্ষিকীর দিনটি পালনে রাঙ্গামাটিতে নেয়া হয়েছে নানা আয়োজন।

ফরিদপুরের জন্ম নেয়া এ মানুষটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইস্ট পাকিস্থান রাইফেলসে কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে রাঙ্গামাটি- মহালছড়ি পানিপথ প্রতিরোধ করার জন্য অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পানি সৈন্যের সাথে বুড়িঘাটে দায়িত্ব পালন অবস্থায় হঠাৎ পাকিস্থান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটালিয়নের দুই কোম্পানি সৈন্য, বেশ কয়েকটি স্পিড বোট এবং দু’টি লঞ্চে করে বুড়িঘাট দখলের জন্য আক্রমণ করে ও মর্টার এবং অন্যান্য ভারী অস্ত্র দিয়ে অবিরাম গোলাবর্ষণ শুরু করে।

অতর্কিত আক্রমণে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন ও এই সুযোগে কিছু পাকিস্থানি সৈন্য তীরে নেমে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান ঘিরে ফেলে। পাকিস্থনি সৈন্যরা এলএমজির রেঞ্জের বাইরে গিয়ে লঞ্চ থেকে মর্টারে গোলাবর্ষণ করতে থাকে। হঠাৎ একটি গোলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুন্সী আবদুর রউফের দেহ।

এদিকে ফরিদপুরে এ উপলক্ষে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারে বেলা ১১টা থেকে আলোচনা সভা এবং বাদ জুমা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্মৃতিফলকে পুস্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি