বিড়ি শিল্পের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব

বাংলাদেশের বিড়ি শিল্পের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে। শিশুশ্রম রোধে এই কর বাড়ানোর প্রস্তাবটি করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ বিহেভেরাল অ্যান্ড হেল্থকেয়ার রিসার্চে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিড়ি শিল্প হাজার হাজার শিশুকে তাদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন শ্রম কিনে নিজেদের মুনাফা বাড়িয়ে চলেছে।

“শৈশবের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে বিড়ি কারখানায় শিশু শ্রমিকদের দিয়ে অস্বাস্থ্যকর এবং অমানবিক কাজ করানো হচ্ছে।” এ থেকে পরিত্রাণের জন্য বিড়ি এবং অন্যান্য তামাকপণ্যে কর বাড়িয়ে সেইসাথে ভোক্তা পর্যায়েও এগুলোর দাম বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, “এতে যদি বিড়ির চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা যায়, তাহলে কারখানাগুলো বাধ্য হবে নিজেদের উৎপাদন এবং বিনিয়োগ কমিয়ে আনতে। ফলে হ্রাস পাবে বিড়ি কারখানাগুলোর শ্রমশক্তি, শিশুশ্রমের ব্যবহার কার্যকর সমাধান হবে।”

আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ অনুসারে বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে মোট ৩৮টি কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে, যেগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বাস্থ্যহানিকর। এই কর্মক্ষেত্রগুলোতে শিশুদের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় বিড়ি ও তামাক শিল্পের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও লালমনিরহাটে প্রচুর পরিমাণে তামাক চাষ হয়। এসব এলাকায় যেসব বিড়ি শিল্প রয়েছে সেখানকার শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগ শিশু শ্রমিক, যাদের বয়স ৪ থেকে ১৪ বছর। সেখানকার দারিদ্র্যের সুযোগে বিড়ি শিল্প মালিকরা এই শিশুদের শ্রমিক হিসাবে অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করাচ্ছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিড়ি কারখানায় কাজ করার কারণে শিশু শ্রমিকদের ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা, তলপেটের প্রদাহ, ডায়রিয়া ও পেশির ব্যথাসহ নানা রোগে ভুগতে দেখা যায়। “সেখানকার শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের প্রায় ৮০ ভাগই বিড়ি কারখানার শ্রমিক ছিলেন।”