বিকাল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)ক্যাম্পাসে আজ শুক্রবার (২০ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ঢাবির সুফিয়া কামাল হল থেকে বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে তিন ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক ‍নুরু।

তিনি বলেন, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে কেন অভিভাবক ডেকে তাদের হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে? আমাদেরকে অনেকে ভেতর থেকে বলেছেন যে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যেন কেউ কথা না বলে।

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। হুমকি দেয়া হয় হলচ্যুত করার। এছাড়াও মেয়েদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে চেক করা হয়। বাড়িতে ফোন দিয়ে অভিভাবককে বকাঝকা করেন প্রাধ্যক্ষ।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনও তদন্ত ছাড়াই হলের ছাত্রীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসনের কাছে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন আশ্বাসও দিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন সেই ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। একইসঙ্গে আমরা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমানের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।’ পরে আজ বিকালে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন নুরুল হক নুরু।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অন্তত তিন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার খবর ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে রাত দেড়টার কিছু পরে হলটির সামনে আসেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরু। এরপর একে একে ওই আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়। তারা ফেসবুকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে সবাইকে হলটির সামনে আসার আহ্বান জানান। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা হলের সামনে মিছিল করেন। ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘রাতের আঁধারে আমার বোন বাইরে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।

বাইরে এ মিছিলের সময় হলের বিভিন্ন ভবনের ছাত্রীরা জানলা দিয়ে হাত নেড়ে তাদের স্বাগত জানান।